ইসলামে পর্দার বিধানঃ বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে

ইসলামে পর্দা (হিজাব) বলতে শুধু মাথায় কাপড় দেওয়া বোঝায় না। এটি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য শালীনতা, লজ্জাশীলতা ও আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার একটি ব্যবস্থা। 

পর্দার মধ্যে রয়েছে:

  • শালীন পোশাক পরা-শরীর যথাযথভাবে আবৃত রাখা এবং পোশাক স্বচ্ছ বা আঁটসাঁট না হওয়া।
  • দৃষ্টি সংযত রাখা-নারী ও পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টি সংযত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (সূরা আন-নূর ২৪:৩০–৩১)।
  • কথাবার্তায় শালীনতা-প্রয়োজনীয় কথা বলা যায়, তবে আকর্ষণ সৃষ্টিকারী ভঙ্গি এড়ানো।
  • চলাফেরা ও আচরণে শালীনতা বজায় রাখা।
  • সৌন্দর্য গায়রে মাহরামের সামনে প্রকাশ না করা
  • বাইরে গেলে শরীর ঢেকে শালীন পোশাক পরা। সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫৯-এ এ বিষয়ে নির্দেশ রয়েছে।

কারা মাহরাম ও কারা মাহরাম নয়

নারীদের  জন্য মাহরাম পুরুষ

একজন নারীর স্থায়ী মাহরাম পুরুষদের মধ্যে প্রধানত:

রক্তের সম্পর্ক

  • বাবা
  • দাদা, নানা ও ঊর্ধ্বতন পুরুষ
  • ছেলে
  • নাতি ও নিচের বংশধর
  • সহোদর/বৈমাত্রেয়/বৈপিত্রেয় ভাই
  • ভাইয়ের ছেলে
  • বোনের ছেলে
  • চাচা
  • মামা

বিয়ের কারণে মাহরাম

  • শ্বশুর
  • স্বামীর দাদা/নানা
  • স্বামীর ছেলে (সৎছেলে)
  • স্বামীর নাতি ও নিচের বংশধর
  • মেয়ের স্বামী (জামাই)
  • মায়ের স্বামী (সৎবাবা) – মায়ের সঙ্গে বৈধ দাম্পত্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হলে

দুধের সম্পর্ক
দুধপানজনিত সম্পর্কেও রক্তের সম্পর্কের মতো মাহরাম হয়। যেমন:

  • দুধ বাবা
  • দুধ ভাই
  • দুধ ছেলে
  • দুধ চাচা/মামা ইত্যাদি।

পুরুষদের জন্য  মাহরাম নারী 

রক্তের সম্পর্ক

  • মা
  • দাদি, নানি ও ঊর্ধ্বতন নারী
  • মেয়ে
  • নাতনি ও নিচের বংশধর
  • বোন
  • ভাইয়ের মেয়ে (ভাতিজি)
  • বোনের মেয়ে (ভাগ্নি)
  • ফুফু
  • খালা

বিয়ের কারণে মাহরাম

  • শাশুড়ি
  • স্ত্রীর দাদি/নানি
  • স্ত্রীর মেয়ে (সৎমেয়ে) – মায়ের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হলে
  • ছেলের স্ত্রী (পুত্রবধূ)
  • বাবার স্ত্রী (সৎমা)

দুধের সম্পর্ক
দুধ মা, দুধ বোন ইত্যাদিও মাহরাম।

যাদের অনেকেই ভুল করে মাহরাম মনে করেন

  • চাচাতো ভাই/বোন → মাহরাম নয়
  • মামাতো ভাই/বোন → মাহরাম নয়
  • খালাতো ভাই/বোন → মাহরাম নয়
  • ফুফাতো ভাই/বোন → মাহরাম নয়
  • দেবর/ভাশুর → নারীর মাহরাম নয়
  • দুলাভাই → মাহরাম নয়
  • ভাবি → পুরুষের মাহরাম নয়

সহজভাবে বলা যায়, যাদের সাথে বিয়ে বৈধ তারা মাহরাম নয়। 

পর্দা সম্পর্কে কিছু কোরআনের আয়াত –

১. সূরা আন-নূর – ২৪:৩০

“মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। তারা যা করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সে সম্পর্কে অবহিত।”

এখানে প্রথমে পুরুষদের দৃষ্টি সংযত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২. সূরা আন-নূর – ২৪:৩১

“আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে, তাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে এবং তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশিত হয় তা ছাড়া। তারা যেন তাদের ওড়না বক্ষদেশের ওপর টেনে দেয় এবং তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে…”

এটি নারীর পোশাক, সৌন্দর্য, দৃষ্টি ও শালীনতা সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়াতগুলোর একটি।

৩. সূরা আল-আহযাব – ৩৩:৫৯

“হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, আপনার কন্যাদের এবং মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে এবং তাদেরকে কষ্ট দেওয়া হবে না। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”

এখানে বাইরে বের হওয়ার সময় বাহ্যিক পোশাকের মাধ্যমে শালীনতা ও মর্যাদা রক্ষা করার নির্দেশ এসেছে।

৪. সূরা আল-আহযাব – ৩৩:৫৩

“…আর যখন তোমরা তাঁর স্ত্রীদের কাছে কোনো কিছু চাইবে, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটি তোমাদের হৃদয় ও তাদের হৃদয়ের জন্য অধিক পবিত্র।”

এখানে পর্দার আড়াল থেকে কথা বলার নির্দেশ মূলত নবী ﷺ-এর স্ত্রীদের ক্ষেত্রে এসেছে।

৫. সূরা আল-আহযাব – ৩৩:৩২

“হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মতো নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে কথায় কোমলতা অবলম্বন করো না, যাতে যার অন্তরে রোগ আছে সে আকৃষ্ট হয়; বরং স্বাভাবিক ও উপযুক্ত কথা বলো।”

এখানে নারীদের কথাবার্তায় শালীনতা বজায় রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

৬. সূরা আন-নূর – ২৪:৬০

“আর বৃদ্ধ নারীরা, যারা বিবাহের আশা রাখে না, তাদের জন্য কোনো দোষ নেই যদি তারা তাদের বাহ্যিক পোশাক খুলে রাখে, তবে সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে। তবে সংযম অবলম্বন করাই তাদের জন্য উত্তম। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, পোশাক ও সৌন্দর্য প্রদর্শন না করা পর্দার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

৭. সূরা আল-আহযাব – ৩৩:৫৫

এখানে নবী ﷺ-এর স্ত্রীদের সামনে কারা পর্দার বাধ্যবাধকতার বাইরে—যেমন তাদের পিতা, পুত্র, ভাই, ভাইয়ের পুত্র, বোনের পুত্র, নারীগণ এবং অধীনস্থ ব্যক্তিরা—তা উল্লেখ করা হয়েছে।

পর্দা সম্পর্কে কিছু হাদিস –

১. নারীদের বাইরে যাওয়ার সময় চাদর নেওয়া

উম্মে সালামা (রা.) বলেন, যখন সূরা আল-আহযাবের ৫৯ নম্বর আয়াত নাজিল হলো, তখন আনসার নারীরা এমনভাবে বের হলেন যেন তাঁদের মাথার ওপর কালো চাদর রয়েছে।সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৪১০১।


এটি নারীদের বাইরে যাওয়ার সময় শালীন ও আবৃত পোশাক পরার বিষয়টি বোঝায়।

২. নারীদের দৃষ্টি সংযত রাখা

রাসুলুল্লাহ ﷺ আলী (রা.)-কে বলেন:

“প্রথম দৃষ্টি তোমার জন্য, কিন্তু পরের দৃষ্টি তোমার জন্য নয়।”সুনান আবু দাউদ, হাদিস ২১৪৯।


অনিচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টি পড়ে গেলে তা সরিয়ে নেওয়ার শিক্ষা পাওয়া যায়।

৩. হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে গেলে

জারীর ইবন আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাঁকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন।সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১৫৯।


শুধু নারীদের নয়, পুরুষদেরও দৃষ্টি সংযত করা পর্দার অংশ।

৪. নারীরা মসজিদে গেলে

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“তোমরা আল্লাহর বান্দীদের আল্লাহর মসজিদগুলোতে যেতে বাধা দিও না।”সহিহ বুখারি ৯০০; সহিহ মুসলিম ৪৪২।

অর্থাৎ ইসলাম নারীদের ঘর থেকে বের হওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেনি; বরং শালীনতা ও ইসলামী বিধান মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

৫. নারীদের মসজিদে যাওয়ার সময় সুগন্ধি ব্যবহার

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কোনো নারী সুগন্ধি ব্যবহার করে মানুষের সামনে দিয়ে যাওয়া উচিত নয়, যাতে তারা তার সুগন্ধ অনুভব করে।সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৪১৭৩; জামে তিরমিজি, হাদিস ২৭৮৬।

এখানে উদ্দেশ্য হলো অন্যের আকর্ষণ সৃষ্টি করে এমনভাবে নিজেকে উপস্থাপন না করা

৬. পাতলা পোশাক সম্পর্কে সতর্কতা

রাসুলুল্লাহ ﷺ এমন কিছু নারীর ব্যাপারে সতর্ক করেছেন যারা পোশাক পরেও এমনভাবে থাকবে যে তারা কার্যত অনাবৃত বলে মনে হবে।সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১২৮।

আলেমরা এই হাদিস থেকে স্বচ্ছ/পাতলা বা শরীর প্রকাশকারী পোশাক থেকে বিরত থাকার শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

৭. নারীর সতর ও শালীনতা

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“নারী হলো আওরাহ/সতর; সে যখন বাইরে বের হয়, শয়তান তাকে মানুষের দৃষ্টিতে আকর্ষণীয় করে তোলে।”জামে তিরমিজি, হাদিস ১১৭৩।

এর উদ্দেশ্য নারীদের হেয় করা নয়; বরং শালীনতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার গুরুত্ব বোঝানো।

৮. মাহরাম ছাড়া নির্জনে থাকা

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“কোনো পুরুষ কোনো নারীর সঙ্গে নির্জনে থাকবে না, যদি তার সঙ্গে মাহরাম না থাকে।”সহিহ বুখারি ৫২৩৩; সহিহ মুসলিম ১৩৪১।

পর্দা শুধু পোশাকের বিষয় নয়; নারী-পুরুষের একান্ত অবস্থান ও সামাজিক আচরণও এর অন্তর্ভুক্ত।

৯. নারীদের কাছে প্রবেশের ব্যাপারে সতর্কতা

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“নারীদের কাছে প্রবেশ করা থেকে সাবধান।”এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, “আত্মীয়দের মধ্যে স্বামীর ভাই সম্পর্কে কী?” তিনি বললেন, “স্বামীর ভাই তো ধ্বংসের মতো।”
– সহিহ বুখারি ৫২৩২; সহিহ মুসলিম ২১৭২।

এখানে বিশেষভাবে গায়রে মাহরাম আত্মীয়দের ব্যাপারে অসতর্কতা থেকে সতর্ক করা হয়েছে।

১০. নারীদের ঘরের দিকে যাওয়ার পথ

উম্মে সালামা (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ ﷺ পুরুষদের ও নারীদের চলাচলের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা করেছিলেন যাতে পরস্পরের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় মিশ্রণ কম হয়।
– সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৫২৭২।

মুখ ও হাত কি ঢাকতে হবে? বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে

ইসলামে নারীর পর্দা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। তবে পর্দা বলতে শুধু মাথার চুল ঢেকে রাখা বোঝায় না; বরং পোশাক, দৃষ্টি, কথা ও আচরণ—সবকিছুর মধ্যে শালীনতা বজায় রাখাকে বোঝায়। কুরআনে আল্লাহ তাআলা মুমিন নারীদের দৃষ্টি সংযত রাখতে, নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজত করতে এবং সৌন্দর্য প্রকাশ না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। (সূরা আন-নূর, ২৪:৩১)

মুখ ও হাত ঢাকার বিধান

গায়রে-মাহরাম পুরুষের সামনে নারীর মুখ ও হাত ঢাকার বিষয়ে ইসলামী আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একদল আলেমের মতে, নারীর পুরো শরীরের মতো মুখ ও হাতও আবৃত রাখা আবশ্যক। তাঁরা সূরা আল-আহযাব ৩৩:৫৯, সূরা আন-নূর ২৪:৩১ এবং কিছু হাদিস ও সাহাবিদের আমলকে এর দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

অন্যদিকে, বহু ফকিহের মতে নারীর মুখ ও হাত মূলত সতরের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই শালীন ও শরিয়তসম্মত পোশাকের সঙ্গে মুখ ও হাত খোলা রাখার অনুমতি রয়েছে। তবে যদি কোনো পরিস্থিতিতে আকর্ষণ বা ফিতনার আশঙ্কা থাকে, তখন মুখ ঢাকার প্রয়োজন হতে পারে এমন ব্যাখ্যাও ফিকহে পাওয়া যায়।

অতএব, মুখ ঢাকার বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা ঠিক নয় যেন এ বিষয়ে ইসলামী আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদই নেই। একই সঙ্গে নিকাব পরাকে অপ্রয়োজনীয় বা ইসলামের বাইরে বলাও সঠিক নয়। এটি গ্রহণযোগ্য একটি ইসলামী মত ও আমল।

বর্তমান সময়ে বিষয়টি কীভাবে দেখা উচিত?

বর্তমান সমাজে নারীকে বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তাই একজন নারী যদি মুখ ও হাত ঢেকে নিকাব করেন, তিনি অবশ্যই পর্দার একটি অধিক সতর্ক পদ্ধতি অনুসরণ করছেন। আবার কোনো নারী যদি মুখ ও হাত খোলা রাখেন কিন্তু চুল, ঘাড়, বুক ও শরীর শালীন ও ঢিলেঢালা পোশাক দিয়ে আবৃত রাখেন, তাহলে শুধু মুখ খোলা থাকার কারণে তাকে পর্দাহীন বলা উচিত নয় কারণ এ বিষয়ে স্বীকৃত ফিকহি মতভেদ রয়েছে।

তবে মুখ খোলা রাখলেও অতিরিক্ত সাজসজ্জা, প্রদর্শনমূলক আচরণ বা গায়রে-মাহরাম পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার উদ্দেশ্যে নিজেকে উপস্থাপন করা পর্দার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পুরুষেরও দায়িত্ব রয়েছে

পর্দার দায়িত্ব শুধু নারীর ওপর নয়। কুরআনে নারীদের পর্দার নির্দেশ দেওয়ার আগেই মুমিন পুরুষদের দৃষ্টি সংযত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:

“মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে।” সূরা আন-নূর, ২৪:৩০

এর পরের আয়াতেই মুমিন নারীদের দৃষ্টি সংযত রাখা ও সৌন্দর্য প্রকাশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূরা আন-নূর, ২৪:৩১

অর্থাৎ ইসলামের পর্দা ব্যবস্থা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই শালীনতা ও আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়।

অতএব, মুখ ও হাত ঢাকার বিষয়টি ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিকহি মতভেদের বিষয়। যারা মুখ ও হাত ঢাকেন, তারা শরিয়তের একটি শক্তিশালী ও সতর্ক মত অনুসরণ করেন। আর যারা স্বীকৃত ফিকহি মত অনুযায়ী মুখ ও হাত খোলা রাখেন কিন্তু পর্দার অন্যান্য শর্ত পালন করেন, তাদেরও সরাসরি পর্দাহীন বলা উচিত নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, পর্দাকে শুধু নিকাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শালীন পোশাক, দৃষ্টি সংযম, কথা ও আচরণের পবিত্রতা এবং নারী-পুরুষের সম্পর্কের ইসলামী সীমা বজায় রাখা।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন।”
– সূরা আত-তালাক, ৬৫:২