ফরজ ইবাদত-আল্লাহর কাছে ফিরে আসার প্রথম ধাপ

• ৪ মিনিটের পাঠ

জীবনে আমরা অনেক কিছু অর্জন করতে চাই ভালো পড়াশোনা, সুন্দর ভবিষ্যৎ, অর্থ-সম্পদ, সম্মান, সফলতা। কিন্তু কখনো কি নিজেকে প্রশ্ন করেছি আমার রব আমার কাছে কী চান?

ইসলাম অনেক সদূরপ্রসারী কিন্তু আল্লাহ সকলের জন্য শুধু ইসলামের বেসিক জ্ঞান অর্জন ফরজ করেছেন এবং কিছু মানুষ ইসলামের গভীর জ্ঞান অর্জন করলেই সকলে দায়মুক্ত হয়ে যাবে।  আমাদের অবস্থা এতই শোচনীয় যে আমরা ইসলামের বেসিক জ্ঞানটাও অর্জন করি না বা অর্জন করতে চেষ্টা করি না। যেখানে আমাদের রব আমাদেরকে বলেছেন যে, কিছু বিষয় যেমন- নামাজ, রোজা, হজ(সামর্থ্য থাকলে), জাকাত(সামর্থ্য থাকলে),কুরবানি(সামর্থ্য থাকলে), পর্দা, প্রয়োজনীয় দ্বীনি জ্ঞান অর্জন, হারাম থেকে বেঁচে থাকা ইত্যাদি ফরজ/অবশ্যই পালনীয়। আমরা কোনভাবেই তা এড়িয়ে যেতে পারবোনা। 

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফরজ ইবাদতগুলো যথাযথভাবে পালন করা। নফল ইবাদত যতই বেশি করি না কেন, ফরজ ইবাদত অবহেলা করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা সম্ভব নয়।

১. নামাজ 

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শুধু একটি নিয়মিত কাজ নয়; এটি বান্দা ও তার রবের মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের অন্যতম মাধ্যম।

ব্যস্ততা যতই থাকুক, নামাজের সময় হলে একটু থামুন। পৃথিবীর কাজ অপেক্ষা করতে পারে, কিন্তু আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার সময়টি যেন হারিয়ে না যায়।

আজ যে নামাজটি পড়ছি, হয়তো সেটিই আমার জীবনের শেষ নামাজ হতে পারে এই অনুভূতি নিয়ে নামাজ আদায় করলে ইবাদতের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে যাবে।

বুরাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন:

«الْعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلَاةُ فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ»

অর্থ: “আমাদের ও তাদের মধ্যে অঙ্গীকার হলো নামাজ; অতএব যে তা পরিত্যাগ করল, সে কুফর করল/কাফের হয়ে গেলো।”

জামে তিরমিজি, হাদিস ২৬২১ 

২. রমজানের রোজা

রোজা শুধু না খেয়ে থাকার নাম নয়। এটি আত্মসংযম, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের শিক্ষা দেয়।

রমজান এলে আমরা যেন শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য না করি; বরং চোখ, কান, জিহ্বা ও অন্তরকেও গুনাহ থেকে সংযত রাখার চেষ্টা করি।

৩. যাকাত

আল্লাহ যাকে সম্পদ দিয়েছেন, তার সম্পদে অভাবী মানুষেরও একটি অধিকার রয়েছে।

যাকাত সম্পদকে কমিয়ে দেয় না; বরং আল্লাহর নির্দেশ মেনে সম্পদকে পবিত্র করার সুযোগ করে দেয়। তাই যাদের ওপর যাকাত ফরজ হয়েছে, তারা যেন হিসাব করে যথাযথভাবে যাকাত আদায় করেন।

৪. হজ

যাদের ওপর হজ ফরজ হওয়ার শর্ত পূরণ হয়েছে, তাদের জন্য এটি জীবনের এক মহান ইবাদত।

আল্লাহর ঘরের দিকে যাত্রা শুধু একটি ভ্রমণ নয়; এটি আত্মসমর্পণ, ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ।

৫. পর্দা ও শালীনতা

অনেকেই পর্দা করা যে ফরজ তাও জানেনা। আবার অনেকেই বলে এটা মনের বিষয়, শরীর ঢেকে রাখা, দৃষ্টি অবনত রাখা জরুরি না। অথচ একটা চুল বের করার জন্যও ভয়াবহ আযাবের কথা বলা হয়েছে। আবার  অনেকেই মনে করে শুধু অপরিচিত ব্যাক্তিদের সাথে পর্দা করতে হবে। কিন্তু ইসলাম কি বলেছে তা জানার চেষ্টাও করে না। পর্দা শুধু পোশাকের বিষয় নয়; এর সঙ্গে দৃষ্টি, আচরণ, কথা ও শালীনতাও জড়িত।

একজন মুমিন যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের পোশাক ও আচরণে শালীনতা বজায় রাখেন, তখন সেটি তাঁর রবের প্রতি আনুগত্যেরই প্রকাশ।

মানুষ কী বলবে এই চিন্তার চেয়ে আল্লাহ কী পছন্দ করেন এই চিন্তাটিই আমাদের কাছে বড় হওয়া উচিত।

৬. পবিত্রতা ও প্রয়োজনীয় দ্বীনি জ্ঞান

অজু, ফরজ গোসল, পবিত্রতা, নামাজের নিয়ম, রোজার বিধান এসব শেখা শুধু জ্ঞান অর্জন নয়; বরং নিজের ওপর ফরজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের প্রস্তুতি।

আমরা দুনিয়ার ছোট ছোট কাজ শেখার জন্য কত সময় ব্যয় করি। তাহলে যে ইবাদত আমাদের আখিরাতের সফলতার সঙ্গে সম্পর্কিত, তা শেখার জন্য কেন সময় দেব না?

হয়তো আপনি এতদিন নিয়মিত নামাজ পড়েননি। হয়তো পর্দা ঠিকভাবে পালন করতে পারেননি। হয়তো রোজা বা অন্যান্য ইবাদতে অনেক ঘাটতি হয়েছে। তবুও হতাশ হবেন না। অতীতের ভুল আপনাকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা থেকে বিরত রাখবে না। আজকের একটি সিদ্ধান্ত আপনার আগামী জীবনকে বদলে দিতে পারে।

আজ থেকেই শুরু করুন- 

নামাজ ঠিক করি।
পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখি।
হারাম থেকে দূরে থাকি।
প্রয়োজনীয় দ্বীনি জ্ঞান শিখি।
গুনাহ হলে তওবা করি।
আর প্রতিটি কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দিই।

মনে রাখুন, আমাদের জীবন খুব দীর্ঘ নয়। একদিন এই দুনিয়ার সব ব্যস্ততা থেমে যাবে। থেকে যাবে শুধু আমাদের আমল। তাই দুনিয়ার সফলতার পাশাপাশি আখিরাতের সফলতার জন্যও প্রস্তুতি নিই।

আজ যে ফরজ ইবাদতটি অবহেলা করছি, হয়তো কাল সেটিই করার সুযোগ আর নাও থাকতে পারে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে ফরজ ইবাদতগুলো সঠিকভাবে পালন করার তাওফিক দিন, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দিন এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনকারী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।