ধারাবাহিক ক্ষুদে বিজ্ঞানীর ক্লাব - 5 পর্ব (28)

রান্না ঘরের সামনে খানি ফাঁকা জায়গা আছে।
কেউ যত্ন নেয় না। এমনিতেই পড়ে আছে। একদিন খেয়াল করে দেখি ওখানে সবুজ
কচি কিসের যেন কয়েকটা চারা হয়েছে। খুব ছোট। মাত্র দুটো করে পাতা বের হয়েছে।
কয়েক দিনের মধ্যে লকলক করে বড় হয়ে গেল। অবাক হয়ে দেখলাম মরিচের চারা ওরা। কয়েকটা টম্যাটোর
কিন্তু অত যত্ন করে কে গাছ লাগাল ওখানে ?
আসলে এই চারা গাছ গুলো কেউ লাগায়নি।
রান্না ঘর থেকে মা সবজীর খোসা আবর্জনা ফেলে ফেলে দিয়েছিল। টমেটো আর মরিচের দানা ছিল সাথে। এই সব বীজ আর দানা অনেক দিন মাটিতে পরে থাকে।
বীজের ভেতরে গাছ ঘুমিয়ে থাকে।
পরে সময় আর সুযোগ পেলে গাছের ঘুম ভাঙ্গে। একটু একটু করে বাইরে উঁকি দেয়
চারা গাছটা । ধীরে ধীরে অনেক বড় হয়। এমন কি একটা বট গাছের চারা বীজ
দেখলে তুমি অবাক হয়ে যাবে। কে জানে এত বড় গাছ হবে এত টুকু চারা থেকে।
বীজ থেকে চারা বের হতে কয়েকটা জিনিস খুব দরকার।
যেমন পানি, আলো, আর বাতাস। একটা গাছের শরীরে নানান অংশ আছে।
আর প্রত্যেকটা অংশের কাজ আলাদা আলাদা।
আর জানোই তো গাছ পালা সূর্যের আলো থেকে খাবার বানায়। নিজেরা বেঁচে থাকে।
আর আমাদের জন্যও খাবার দেয়। এমন কি আমাদের শ্বাস নিতে যে অক্সিজেন দরকার সেটাও গাছ তৈরি করে আমাদের জন্য।
সারা পৃথিবীতে মোট ৩ লক্ষ ৫০ হাজার বিভিন্ন ধরনের গাছ পালা আছে।
নানান ধরনের। নানান সাইজের।
গাছের শরীরে তিনটা অংশ থাকে । শিকড়, কাণ্ড আর পাতা।
শিকড় দিয়েই মাটি থেকে গাছ খাবার যোগার করে। পানি আর খনিজ পদার্থ চুষে নেয়
মাটি থেকে।
বেশির ভাগ গাছ বীজ থেকেই বংশ বৃদ্দি করে। আবার কিছু গাছ শেকড় দিয়ে ফল দিয়ে করে। যেমন আলু কিছু দিন ভাড়ার ঘরে রেখে দিলে দেখবে আলুর গায়ে
শেকড় হয়ে গেছে। ওটা কেটে মাটিতে বুনে দিলে দেখবে নতুন আলুর গাছ হয়েছে।
সব গাছ চায় ওদের বাচ্চা কাচ্চা বেঁচে থাকুক দুনিয়ায়। তাই বীজকে সুস্বাদু
ফলের ভেতরে রেখে দেয়। যাতে সেই ফল মানুষ বা পশু পাখী খাবার জন্য নিয়ে যায়।
ফল খাওয়ার পর বীজ ছেলে দেয়া হয় অনাদরে।
আর সেই বীজ থেকে সময় সুযোগ মত নতুন বাচ্চা গাছ জন্ম নেয়।
গাছের ফল হয় না। তাই ঘাসের বীজ ফেটে গিয়ে তুলার মত ভাসতে ভাসতে দূর দুরান্তে চলে যায়। যেখানে পরে ওখানেই তৈরি হয় দীঘল ঘাসের বন।
এবারের পরীক্ষা একদম সহজ।
তেমন কিছু লাগবে না। এক মুঠো শিমের দানা নাও মা-য়ের কাছ থেকে।
এবার চার বা পাঁচটে টিনের কৌটা নাও। না থাকলে বাতিল কাপ বা অন্য কিছু হলেও চলবে।
বাগান থেকে মাটি এনে সেই টিনের কৌটা বা কাপ ভর্তি কর।
শিমের দানা তিন চারটে করে রাখ প্রত্যেকটা কৌটায়। সামান্য পানি দিয়ে নানান জায়গায় ছড়িয়ে রাখ কৌটা বা কাপগুলো।
এ গুলো তোমার ক্ষুদে বাগান।
একটা রাখতে পার জানালার কাছে। যেখানে সকালের রোদ পাবে। আরেকটা রাখতে পার বিছানার তলায় বা পড়ার টেবিলের নীচে। মোট কথা নানান জায়গায়।
এবার প্রতেক দিন সামান্য করে পানি দাও।
ভাল করে নজর রাখ প্রত্যেকটা বাগানে।
কয়েক দিন পরই ফল পাবে।
কি দেখছ ? সব কয়টা বাগানে কি শিম থেকে অঙ্কুর হচ্ছে ?
না।
তাই না ?
খেয়াল করলে দেখতে পাবে যেই বাগানে নামে কৌটায় সুন্দর মত রোদ, বাতাস আর
পানি পড়েছে সেই বাগানের শিম থেকেই অঙ্কুর বের হয়ে চারা বের হয়েছে। কয়েকটায়
দেখবে শুধু অঙ্কুর বের হয়েই আছে। কিন্তু চারা বের হয়নি।
আবার কোন কৌটায় বেশি পানি দিলেও ওটা ভাল হয়নি।
এই পরীক্ষা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম উপযুক্ত পরিবেশ পেলেই বীজ থেকে চারা জন্ম নেয়।

Series Navigation<< বাতাস কি করে বয়ে যায়ভাসমান ডিম ডুবে যাওয়া ডিম >>

মতামত জানান