ধারাবাহিক ক্ষুদে বিজ্ঞানীর ক্লাব - 11 পর্ব (28)

ঘটনা তেমন কিছু না।
তরুণ আইজ্যাক নিউটন সাহেব একটা আপেল গাছের নীচে বসে গভীর ভাবে চিন্তা করছিলেন।
তখন হঠাৎ করে পেল্লাই সাইজের একটা আপেল পরে যায় তার মাথায়।
ভাগ্য ভাল ওটা আপেল ছিল। নারকেল বা বেল ছিল না। তখনই বিজ্ঞানী নিউটন সেই গ্যাভিিটি সূত্র আবিষ্কার করেন।
ওই আর কি তার সুত্রের মতে পৃথিবী সব কিছুই তার নিজের দিকে টানছে। ওটা না হলে তুমি দশ তলা দালানের ছাদ থেকে লাফ দিলে আর নীচে পড়তে না। উড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে।

পিচ্চিদের বিজ্ঞান বইতে অমন একটা ছবি দেখি , মাথা ভর্তি শুকনা ধুন্ধুলের মত চুল নিয়ে নিউটন সাহেব বসা।আর গাছ থেকে আপেল পড়ছে। তো আসলে কি মনে হয় ? ঘটনা কি সত্যি ?
অনেকেই মনে করে ব্যাপারটা হয়তো গাল গল্প।
বিজ্ঞানের অনেক আবিস্কারের সাথে অমন গাল গল্প ছড়িয়ে আছে।
যেমন আর্কিমিডিস বাথটাবে গোসল করছিলেন। তারপরই ইউরেকা বলে চিৎকার করে জামা কাপড় ছাড়াই দৌড়ে রাস্তায় চলে গিয়েছিলেন। আবার জেমস ওয়াট নাকি রান্না ঘরে বসেছিলেন। আর পেল্লায় এক কেটলিতে জল ফুটছিল। তখনই বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করার আইডিয়া মাথায় আসে।

নিউটনের কথায় ফিরে আসি।
এই আপেল কি অপ্রামাণিক গল্প ?
লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি কিন্তু একটা পাণ্ডুলিপি যত্নের সাথে জমা হয়ে আছে। সেটা হল- উইলিয়াম স্তিউকলি (William Stukeley) – এর লেখা আইজাক নিউটনের জীবনী। ১৭৫২ সালে ছাপা হয়েছিল বইটা। বইটার নাম -মেমরিস অফ স্যার আইজাক নিউটন লাইফ। বইটা অনলাইনে ২০০৪ সাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে। ফ্রি। ওখানে কিন্তু উইলিয়াম স্তিউকলি লিখেছেন- “রাতের খাবার শেষ করার পর খেয়াল করলাম বেশ গরম লাগছিল। আমরা বাগানে গিয়ে কতগুলো আপেল গাছের ঝোপের নীচে বসলাম। চা পান করার জন্য। তখনই কাকতালীয় ভাবে একটা আপেল পড়লো।
বাগানে গবেষণার মুডে ছিল সে ( নিউটন) । আপন মনেই বলল , আচ্ছা আপেলগুলো সারাক্ষণ আমাদের বিরক্ত করে কেন ?
মহাকর্ষ ধরনা চলে এলো তার মাথায়।”
রয়্যাল সোসাইটি তাদের ৩৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই পাণ্ডুলিপি ইন্টারনেটে প্রকাশ করেছে। যাতে সবাই পড়তে পারে।
ইংল্যান্ডের উল্সথর্প- এ এই আপেল গাছটা আজও আছে। প্রতিদিন গণ্ডায় গণ্ডায় লোকজন আপেল গাছটা দেখতে যায়।
অনেকে বলে ১৮২০ সালের এক ঝড়ে পুরানো আপেল গাছটা ভেঙ্গে গিয়েছিল। সেই ভাঙ্গা কাঠের টুকরো দিয়ে নস্যির কৌটা আর পিচ্চি খেলনা বানানো হয়েছিল। বর্তমানে যে আপেল গাছটা আছে সেটা পুরানো আপেল গাছের গোঁড়ার শেকড়
থেকে আবার জন্ম নিয়েছিল।
কাজেই নিউটন সত্যি আপেল গাছের নীচে বসে অভিকর্ষ সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন। কিন্তু আপেল তার মাথায় পড়েছিল কি না সেটা আমাদের জানা দরকারি না। যাই হউক কাহিনি এখানেই শেষ। এই আপেল গাছটা ইংল্যান্ডের সেরা ৫০টা গাছের মধ্যে একটা। সেই গাছ গুলো সবাই ইতিহাসের সাথে জড়িত। কোন না কোন ভাবে।
আর নিউটনের আপেল গাছটা আজও একটা মৌসুমে হাজারে বিজারে মেরুন রঙের আপেলে ভর্তি হয়ে যায়।

Series Navigation<< খাদ্যচক্রবদলে যাবার গল্প >>

মতামত জানান