একটা দৃশ্য কল্পনা করুন। আপনার বাবাকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে আপনার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে একটা রিভলভার। আপনার রিভলভারে ৩টি গুলি। মানে হাতে ৩টি সুযোগ। গুলি করে ফাঁসির দড়ি কেটে দিতে পারলেই বেচে যাবে আপনার বাবা………

ধুর!! মুভি রিভিউ লিখতে গিয়ে এসব কি লিখছি! তারচেয়ে বরং কাহিনীটা লিখে ফেলি। বুনো পশ্চিমের একটা শহর। যেখানে মি: হেরড সর্বময় কর্মকর্তা। শহরের প্রত্যেকের আয়ের ৫০% দিতে হয় যাকে। মার্শালের অফিসটা ভেঙ্গে পড়ে আছে অনেক দিন হল। এই শহরে প্রতি বছরই আয়োজন করা হয় কুইক ড্র প্রতিযোগিতার। নিয়ম খুবই সহজ। বন্দুকধারীদের প্রতিযোগিতায় নাম লেখাতে হবে। প্রতিদিন একটি করে ডুয়েল হবে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া যে কেউ যে কেউকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে। প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নিয়ম অনুসারে প্রতিযোগিতা শুধুমাত্র কুইক ড্র তেই সীমাবদ্ধ। কেউ একজন পরাজয় মেনে নিলেই প্রতিযোগিতা শেষ।

রহস্যময়ী বন্দুকধারী ইলেনের শহরে আগমন। উদ্দেশ্য কুইক ড্রতে অংশ নেয়া। এর বাইরে তার একটি গোপন মিশন রয়েছে। কিন্তু কুইক ড্র য়ের নিয়ম অনুসারে কোন মেয়ে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না। ইলেনের উদ্দেশ্য কি পূরণ হবে?
এবার আসুন দেখি বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে যারা এই কুইক ড্র প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরেছে বা নিতে বাধ্য হয়েছে তাদের অন্যতম চারজনকে-
মি: হেরড (Gene Hackman): এক সময়ের আউট ল। বর্তমানে শহরের মেয়র। বলতে গেলে শহরের সবাই তাকে ঘৃণা করে।
কোর্ট (Russell Crowe): এক সময়ের আউট ল এবং হেরড এর সহযোগী। বর্তমানে ধর্মপ্রচারক এবং আর কখনো অস্ত্র ধরবেনা বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
কিড (Leonardo DiCaprio) : হেরডের ছেলে। হেরড মনে করে তার ছেলে ফাস্ট শুটার হতে অক্ষম। আর কিডের লক্ষ্য, কুইক ড্র-তে অংশ নিয়ে প্রমাণ করা, সে ও তার বাবার মত ফাস্ট শুটার।
ইলেন (Sharon Stone): ?

অংশ নেয়া গান ফাইটারদের মধ্যে একজন রয়েছে ভাড়া করা খুনি। যাকে শহরের লোকজন ভাড়া করেছে হেরডকে খুন করতে।

প্রতিযোগিতার মাঝপথে নিয়ম বদলানো হল। এখন, জিততে হলে অপরকে খুন করতে হবে। প্রতিপক্ষের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিযোগিতা চলবেই। হয় মারো নয় মরো।

শেষ পর্যন্ত টিকে আছে চারজন। হেরড, ইলেন, কোর্ট এবং কিড। কিড চ্যালেঞ্জ করে বসল বাবাকে। অবধারিত ভাবে ইলেনকে লড়তে হবে কোর্টের সাথে। চূড়ান্ত বিজয়ী কি পাওয়া সম্ভব?

আরে ধুর! মুভিটার নামইতো বলা হয় নাই। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া “The Quick and The Dead.” অনেকেই হয়ত বলবেন, “এতদিন পরে এই পুরানো মুভি নিয়া আসছেন!! কবে দেখছি।”
আমিও অনেক আগে দেখছি। হটাত করে মুভি রিভিউ লিখতে ইচ্ছে করল। ভাবলাম, এই পুরাতন মুভিটা দিয়ে শুরু করে দেখি, কেমন হয়।

মতামত জানান