• ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ! সেই কালরাতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বাংলাদেশের বুকে অপারেশন সার্চলাইটের নামে নিরীহ মানুষের উপর চালিয়েছিলো ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ।
  • ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে করা হয় প্রচুর পরিমাণ গোলাবর্ষণ।
  • নারীদের উপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন।
  • পশ্চিম পাকিস্তানীরা সারা পূর্বপাকিস্তানে একযোগে অপারেশন শুরু করেছিলো।
  • অপারেশন সার্চলাইটের আসল উদ্দেশ্য ছিলো ২৬ মার্চ এর মধ্যে সব বড় বড় শহর দখল করে নেয়া এবং রাজনৈতিক ও সামরিক বিরোধীদের খুব দ্রুত নিশ্চিহ্ন করে দেয়া।  
  • ২৫শে মার্চ রাত ১১টায় কারফিউ জারি করা হয় এবং টেলিফোন/টেলিগ্রাফ/রেডিও স্টেশন এবং সকল প্রকার পত্রিকা প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়া হয়।
  • ঢাকা শহরের সড়ক, রেল ও নৌ-পথের দখল নিয়ে সারা শহর বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়  এবং নদীতে টহল জারি করে।
  • ধানমন্ডি সহ সকল হিন্দু এলাকায় বাড়ি বাড়ি যেয়ে সার্চ করা হয়।
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইপিআর সদর দফতর, এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন আক্রমণ করে।
  • ধরা পরা বাঙালি সৈন্য এবং ইপিআর ও পুলিশ কর্মকর্তাদের মেরে ফেলা হয়।
  • বেঁচে যাওয়া পুলিশ এবং ইপিআর সেনারা কেউ শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়, কেউ কেউ বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে জিঞ্জিরায় জমায়েত হয়।
  • গাজিপুর অস্ত্র কারখানা ও রাজেন্দ্রপুর অস্ত্রগুদাম দখলে নিয়ে যায় তারা।  
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র হিন্দু আবাসিক হল জগন্নাথ হল পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।
  • সেদিন রাতে একযোগে জগন্নাথ হল ছাড়াও ইকবাল হল, রোকেয়া হলে পাকিস্তানীরা আক্রমণ করে।
  • সেই রাতে রোকেয়া হলের ৫০ জন ছাত্রী হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে হলের ছাদ থেকে লাফ দেয়।
  • হিংস্রভাবে হত্যা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়জন শিক্ষককে।
  • গ্যাসোলিন ছিটিয়ে ভষ্মিভূত করা হয় পুলিশ সদর দফতর।  
  • ঢাকার সাধারণ মানুষের কাছে ২৫শে মার্চ রাতের বিভীষিকা অপ্রত্যাশিতই ছিল।
  • ২৫ শে মার্চ মধ্যরাত অর্থাৎ ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরেই গ্রেফতার করা হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ আরো ১৫জন বড় নেতাদেরকে।
  • গ্রেফতারের আগে বঙ্গবন্ধু দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি ঘোষণাপত্র পাঠালেন।  
  • সেই ঘোষনাপত্রটি চট্টগ্রামে অবস্থিত তৎকালীন ই.পি.আর এর ট্রান্সমিটারে করে প্রচারের জন্যে পাঠানো হয়।
  • তিনি বলেছিলেন- এটাই হয়ত তাঁর শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।
  • তিনি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানিয়েছিলেন- যে যেখানেই থাকুক তাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে।
  • ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ চট্টগ্রাম বেতারের কয়েকজন কর্মকর্তা ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা প্রথম শেখ মুজিবের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি মাইকিং করে প্রচার করেন।
  • ২৫শে মার্চ কালরাতের পর স্বজনের লাশ আর ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে জেগে ওঠা বাঙালির আনুষ্ঠানিক প্রতিরোধের পালা শুরু হয় ২৬শে মার্চ দিনের আলো ফোটার পর।
  • ২৫ মার্চের গণহত্যা শুধু একটি রাতের হত্যাকান্ডই ছিল না, এটা ছিল মূলতঃ বিশ্ব সভ্যতার জন্য এক কলংকজনক জঘন্যতম গণহত্যার ইতিহাস।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট

মতামত জানান