২০ শে মে ২০১৬ , পেশাগত কাজে বের হয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হন মোঃ কামরুজ্জামান । কোমড় ও হাত পায়ের হাড় ভাঙ্গা অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে।রক্তের প্রয়োজন পরলে “o+” রক্তের ব্যাবস্থা করা হয়।মোঃ কামরুজ্জমান ও তার পরিবারের লোক জানতেন তার রক্তের গ্রুপ “o+”।কিন্তু বারবার ক্রস ম্যাচিং করলেও তার শরীরের রক্তের সাথে ক্রস ম্যাচ মিলছিলো না । পরে পরীক্ষা নিরীক্ষা থেকে জানা যায় মোঃ কামরুজ্জামান বিরল রক্তের গ্রুপ “বোম্বে ব্লাড গ্রুপ” এর বাহক।বোম্বে ব্লাড গ্রুপ কে বলা হয় “Hh” গ্রুপ।বাংলাদেশে এই ব্লাড গ্রুপ এর বাহক প্রথমবার এর মতো দেখা মিলে ।
১৯৫২ সালে ভারতের তৎকালীন বোম্বে বর্তমান মুম্বাই শহরে সর্বপ্রথম এই রক্তের বাহকের খোজ মিলে । এই ব্লাড গ্রুপের আবিস্কারক ডাক্তার  ওয়াই জি ভেন্ডে ।শহরের নাম অনুযায়ী এই রক্তের গ্রুপ কে “বোম্বে ব্লাড গ্রুপ” বলা হয় ।এই রক্তের গ্রুপ এতই অপ্রতুল যে ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে(১২০ কোটি) এই রক্তের গ্রুপ এর বাহক মাত্র ৪০০ জন ।সারা পৃথিবীতে প্রতি ১০ লাখ লোকের মাঝে ৪ জন “Hh+” ব্লাড পাওয়া যায়।মুম্বাই শহরে এই সংখ্যা প্রতি ১০ হাজারে ১ জন।

CSf_EAYUYAEtH6d

এই গ্রুপ এর রক্তে কোন অ্যান্টিজেন থাকে না-শুধু অ্যান্টিবডি থাকে ।“ O “ গ্রুপ এর রক্তেও কোন (A অ্যান্টিজেন ও B অ্যান্টিজেন)অ্যান্টিজেন থাকে না শুধু H অ্যান্টিজেন থাকে ।কিন্তু “বোম্বে ব্লাড গ্রুপ” এ H  অ্যান্টিজেন ও থাকে না – তাই এটি অন্য কোন গ্রুপ এর সাথে মেলে না । কোন অ্যান্টিজেন না থাকায় অন্য কোন গ্রুপ এর রক্ত প্রোসেসিং করেও রক্ত গ্রহন করা যায় না । শুধু বোম্বে ব্লাড গ্রুপ এর বাহক ই রোগীকে রক্ত দিতে পারবে।
মোঃ কামরুজ্জমান রক্তের জন্য মরতে হয় নি  । তিনি যে প্রতিষ্ঠান এ কাজ করতেন তাদের সহযোগিতায় রক্ত এসেছিলো ভারত থেকে । সহমর্মিতার নিদর্শন রেখে মোঃ কামরুজ্জমান এর জন্য রক্ত দিয়েছিলেন ৪ জন ভারতীয় । ভারতে প্রতিবছর বোম্বে ব্লাড গ্রুপধারী সবাইকে নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করা হয়। যাতে সবার সাথে সবার সবসময় যোগাযোগ থাকে …

মতামত জানান