আমাদের বাড়ির পাশেই ছিল ইয়া বড় একটা মাঠ। সবুজ ঘাসে ছাওয়া। বিকেল বেলা খেলতে
গিয়ে আবিষ্কার করতাম হরেক পদের পাখী আসে ঐ মাঠে। চেনা অচেনা। এত পদের পাখী আগে বা পরে কোথাও দেখিনি আমি। নাম ও জানি না সবগুলোর। হলুদ নরম তুল তুলে একটা পাখী দেখতাম । ঠিক যেন উলের বল। চোখ দুটো পুঁতির মত।
সবুজ টিয়া পাখী চিনতে পারতাম । প্রতিবেশী মজনু ভাণ্ডারীর বাড়িতে একটা তকতকে টিয়া পাখী ছিল। পাকা কলা আর লাল মরিচ খেত।
ও হ্যা ,কাক চিনতে পারতাম। কালো কুচকুচে। ঠিক দুক্ষুর বেলা রান্নাঘরের উপরের চালে এসে বসে থাকতো । গরমের দুপুরে গলা ফাটিয়ে কা কা করে চেঁচাত। সুযোগ পেলেই খাবার চুরি করে ভেগে যেত। খাবার না পেলে গায়ে মাখার সাবান ও নিয়ে যেত।
সাবান দিয়ে কি করতো আল্লাহই জানেন। পরে শুনেছি খাবার মনে করে ওরা সাবান নেয়। সাবান দেখতে সুন্দর। আর মিষ্টি একটা সৌরভ আছে তাই লোভনীয় কোন খাবার মনে করে ।
বাড়ির উঠানে কিছু পাটকিলে রঙের চড়ুই আসতো। চিরিপ চিরিপ করে শব্দ করতো। খুঁটে খেত চিনা ঘাসের দানা। পাশের একটা বাড়ির ঘুলঘুলিতে কয়েক জোড়া কবুতর বসে থাকতো। গরমের দুপুরে ওরা অদ্ভুত রকমের বাঁক বাকুম শব্দ করতো। আরেকটু বড় হয়ে চয়নিকা বইতে একটা ছড়া পড়েছিলাম-
বাক্ বাক্ কুম পায়রা
মাথায় দিয়ে টায়রা
বউ সাজবে কাল কি ?
চড়বে সোনার পালকি ?
পালকি চলে ভিন্ গাঁ-
ছয় বেহারার তিন পা।
পায়রা ডাকে বাকুম বাক্
তিন বেহারার মাথায় টাক।
বাক্ বাকুম কুম্ বাক্ বাকুম
ছয় বেহারার নামলো ঘুম।
থামলো তাদের হুকুম হাঁক
পায়রা ডাকে বাকুম্ বাক্।
ছয় বেহারা হুমড়ি খায়
পায়রা উড়ে কোথায় যায় ?
ছড়াটা লিখেছেন জনাব রোকনুজ্জামান খান সাহেব। তবে তখনও হুমড়ি শব্দের মানে জানতাম না।
ভেবেছি তিলের খাজা টাইপের কোন খাবার হবেন। আবার ছয় বেহারার তিন পা কথার মানেও ঠিক বুঝিনি তখন।
পায়রা নিয়ে আরেকটা ছড়া পড়েছিলাম —
নোটন নোটন পায়রাগুলি
ঝোটন বেঁধেছে,
ওপারেতে ছেলেমেয়ে
নাইতে নেমেছে।
দুই ধারে দুই রুই কাতলা
ভেসে উঠেছে,
কে দেখেছে কে দেখেছে
দাদা দেখেছে।
দাদার হাতে কলম ছিল
ছুড়ে মেরেছে,
উঃ বড্ড লেগেছে।
এই ছড়াটাও দারুণ। কিন্তু দাদা কলম ছুড়ে মেরেছে সেটা খুবই বিরক্তিকর।
ফালতু ধরনের মানুষ সেই দাদা ভদ্রলোক।
সুন্দর প্রকৃতির মধ্যে বড় হয়েছি আমি । সকাল থেকে সন্ধ্যা পযন্ত দেখেছি কত পদের পাখী।
নীল রঙের ভিমরাজ। পাকা কমলার মত কমলা বউ পাখী। কালোর মধ্যে সাদা ছোপ দেয়া দোয়েল। ধূসর রঙের খড়কুট নিয়ে বাসা বানাতে দেখেছি বাবুই পাখিদের।হলুদ আর সবুজ মেশানো একটা পাখী ছিল ফটিক জল। কী সুন্দর নাম- ফটিকজল।
আমাদের মহল্লার ফটিক ভাই জল খেলেই হয়ে যেত ফটিক জল।এই পাখী নাকি শুধু বৃষ্টির জল খায়।
বাড়ির সামনের মাঠে ছিল বড় বড় তিনটে নিম গাছ। নিমগাছের পাকা ফল খাবার লোভে চলে আসতো কত কাক। সারাক্ষণ ঝগড়া করতো আর নিম ফল কুড়িয়ে কুড়িয়ে খেত।

অমন তেতো ফলটা কেন ওদের অত প্রিয় কে বলবে ? রোদেলা দুপুরে নিমফলের মিষ্টি সৌরভ বুক ভরে নিতে নিতে ভাবতাম।
তবে নিম ফল দেখতে সুন্দর। খেতে ভাল হলে আমি একা সব গাছের ফল খেয়ে ফেলতাম।
সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার সময় দেখতাম এক ঝাঁক পাখী ইংরেজি ভি (V) হরফের মত করে
উড়ে যাচ্ছে ওদের বাসায়।

বিদেশে পাখী দেখার অনেক ক্লাব আছে। সেটা জেনেছে প্রতিবেশী এক বড় ভাইয়ের কাছে। ধরা যাক তার নাম অমুক ভাই। সেই অমুক ভাইকে দেখতাম সারাদিন দূরবীন চোখে দিয়ে পাখী দেখেন। আর নোট বইতে কি সব লিখে রাখেন। জানতে পারলাম বিদেশের কোন একটা পাখী দেখার ক্লাবের সদস্য।
উনার কাজ কি তা বুঝতে না পারলেও উনি যে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ সেটা বুঝতে পারতাম।
প্রত্যেক মাসে উনার নামে উড়োজাহাজ ছাপ মার্কা খামে করে চিঠি আসতো। খামের উপর সুন্দর সুন্দর ডাকটিকিট সাঁটানো থাকতো। ফুল- পাখী- কচ্ছপ আর রঙ বেরঙের পোকার ছবি সেই ডাক টিকিটে।
আর কে না জানে, বিদেশ থেকে যাদের চিঠি আসে তারা বেশ গুণী মানুষ হয়।
একবার উনার দূরবীন চোখে দিয়ে দেখেছি। সে এক দারুণ জিনিস। দূরের জিনিস ঝপ করে কাছে চলে আসে। এক অশৈলী ব্যাপার। দূরের বট গাছটা এক লাফ দিয়ে চোখের সামনে চলে এলো। হাত বাড়ালেই ধরতে পারব যেন। বট গাছের ডালা পালায় সাদা এক জোড়া বকের ছানা ও দেখতে পেয়েছিলাম।
ঠিক করলাম বড় হয়ে একটা দূরবীন কিনব। ও হ্যা, একটা ক্যামেরাও।
ক্লাস ফাইভে যখন পড়ি তখন হাতে একটা মজার বই এলো।নাম- ‘ ক্ষুদে বিজ্ঞানীর প্রজেক্ট।’
মুক্তধারা প্রকাশনী থেকে বের হয়েছিল। সাদা কাগজ। বোর্ড বাঁধাই।আহা কি সুন্দর একটা বই। পাতায় পাতায় ছবি। রফিকুন নবীর আঁকা।
যে কয়েকটা বই আমার জীবনে দারুণ ভুমিকা রেখেছে সেই বইটা তারমধ্যে একটা। অনেক বার পড়েছি সেই ক্ষুদে বিজ্ঞানীর প্রজেক্ট বইটা। কত বার ?
মনে নেই।
চিন্তা চেতনার দুয়ার খুলে দিয়েছিল বইটা। বিজ্ঞানের প্রতি আর পরিবেশের প্রতি অদ্ভুত রকমের ভালবাসা জন্ম নিয়েছিল সেই কিশোর বয়সেই।
বইতে একটা অধ্যায় ছিল পাখী দেখার শখ নিয়ে। পাখী দেখার ক্লাব বানানোর আইডিয়া তখনই মাথায় আসে।
কে না জানে পাখী দেখার শখের মত মজার কিছু নেই। প্রকৃতির কত কিছু নজরে পড়ে।
কত সুন্দর পাখীর ডিম। নীলচে। হলুদ। বিচিত্র ছিটওয়ালা।পাখীর বাসা কত সুন্দর। কত বিচিত্র ওদের জীবন যাপন। আমরা ভাই বোন মিলে একটা দল খুলেছিলাম তখন।
বিচিত্র সব কর্ম কাণ্ড করি। গুপ্তধন খোঁজা থেকে শুরু করে গোয়েন্দাগিরি পযন্ত।
শেষে একদিন পাখী দেখার ক্লাব খুলে ফেললাম।

লাল টালিওয়ালা একটা বাড়িতে থাকতাম। সামনে কতগুলো জারুল গাছ। একটা মৌসুমে
সবজে হলুদ আর সাদা এই তিন রঙের মেশানো জারুল ফল ধরে। ফলের মধ্যে আবার চুল থাকে। ঠিক ইস্কুলের হেডস্যারের নাকের মত দেখতে।
বাড়ির উঠান ভর্তি সবুজ নরম বাকশা ঘাস আর নুনিয়া শাকের দঙ্গল।গাছ গাছালীর আড়ালে বড় দেখে একটা কাঠের তক্তা বসালাম।
ওখানে কতগুলো বিচিত্র সুন্দর পাথরের টুকরো ছড়িয়ে রাখলাম। আর দিলাম বেশ কয়েক মুঠো মিহি পরিষ্কার বালি। শুনেছি, কিছু পাখী বালিতে গোসল করতে পছন্দ করে। কিছু সোনালী গমের দানা দিলাম ওদের জন্য। আর বড় একটা টিনের বাউলে করে জল।
ওদের যদি তেষ্টা পায়।শুনেছি গরমের দিনে অনেক পাখী তেষ্টায় মারা যায়।
শুরু হয়ে গেল আমাদের পাখী দেখার ক্লাব। ভর দুপুরে চোখ রাখতাম সেই কাঠের তক্তার উপর।
ওরা আসতো। প্রথম কয়েক দিন ভয়ে ভয়ে আসতো। মানুষদের কি সহজে বিশ্বাস করা যায় ? যদি ফাঁদ হয় ? দুষ্টু ছেলেরা তো গুলতি দিয়ে কত পাখীর ঠ্যাং ভেঙ্গে দেয় । খামখাই।
গাব গাছের আঠা দিয়ে কায়দা করে পাখী ধরে অনেকে ।ধরে বাজারে বিক্রি করে।

আমাদের পাখী দেখার ক্লাবটা জমে গেল। অলস দুপুরে নোট বই হাতে বাগানে বসে পাখী দেখতাম। আলী ইমাম সাহেবের কিছু বই আছে পাখিদের নিয়ে। সব পড়লাম।
তোমরা হয়তো জানো না এক জন বিখ্যাত পাখী বিজ্ঞানীর নাম জেমস বন্ড।সেই জেমস বন্ড সাহেব পাখীদের নিয়ে বই লিখেছিলেন।আর এই জেমস বন্ড নামটা নিয়ে ইয়ান ফ্লেমিং সেই বিখ্যাত জেমস বন্ড সিরিজ লিখেছিলেন।
যত রকম শখ আছে তার মধ্যে পাখী দেখার শখ একদম কম খরচের আর সহজ। শুধু একটা দূরবীন হলেই চলে। অন্য সব শখের মত নিয়মিত খরচ করতে হয় না।বাগানে বসার জন্য ভাড়া দিতে হয় না। কারেন্ট বিল নেই। গলফ ক্লাবের মত সদস্য হতে হয় না। নতুন বল কিনতে হয় না প্রতিদিন ।
দূরবীন ব্যবহার সহজ ।যেমন 7×35 পাওয়ার দূরবীন মানে কোন বস্তুর ৭ গুন বড় দেখবে তুমি।
দূরবীন খুব ভারি হলেও সমস্যা। মনে হবে দুই হাতে দুটো ইট নিয়ে বাগানে বসে আছ
তুমি। পাখী দেখার কাজ সহজ মনে হবে না।নোট বইতে লিখে রাখলে ভাল হয়।
কি লিখবে ?
রংঃ পাখিটার রঙ কি ? একদম হলুদ।কাকের মত কালো ? এক রঙা ? না ছোপ
ছোপ রঙের ? গায়ের রঙ হালকা না ঘন ? শালিক পাখীর মত খয়েরি রঙের ? ভিমরাজের মত নীল ?গলার কাছে অন্য রঙের দাগ আছে ?
আকারঃ পাখীটার শরীরের আকার কেমন ? চড়ুইয়ের মত ছোট ? কবুতরের মত মাঝাঁরি ?
নাকি দাড় কাকের মত বড় ? শরীরটা কি গোলাকার ? নাকি লম্বাটে ? মাথায় কি ঝুঁটি
আছে ?
ডানার আকারঃ ডানার আকার কি বড় ? ছোট ? শরীরের রঙের চেয়ে কি ডানার রঙ
আলাদা ?
চোখের রঙঃ চোখের রঙ কি ? চোখের পাশে লম্বাটে রঙের দাগ আছে ?
পালকের রঙঃ পুরো শরীর কি এক রঙের ? নাকি পালকের রঙ আলাদা ?
উড়ার ধরনঃ কিভাবে উড়ে ? টানা উড়তে পারে ? নাকি থেমে থেমে উড়ে? ঘন ঘন নড়াচড়া
করে ? আকাশ আর মাটিতে খুব বেশি উঠে আর নামে ? উড়ার সময় টানা উড়ে ? নাকি
ঢেউয়ের মত উঠা নামা করে উড়ে?
অভ্যাসঃ প্রতিটা পাখীর কিছু অভ্যাস থাকে যাতে তুমি সহজেই ওকে আলাদা করে চিনতে পারবে।

কিছু পাখী মাঠে নেমে আসে। ঘাসের দানা বা শস্যকণা কুড়িয়ে খায়।
আবার কিছু পাখী সহজে গাছ থেকে নামে না। লাফিয়ে লাফিয়ে ডালে ডালে চড়ে বেড়ায়। গাছের ডাল থেকে পোকা মাকড় ধরে খায়। পোকা মাকড় পেলে ওদের খুশি আর ধরে না।
কিছু পাখী একা থাকতে পছন্দ করে। আবার কিছু দেখবে দলবল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। কিছু পাখী গম্ভীর থাকতে পছন্দ করে। আবার কিছু সারাক্ষণ চিল্লা ফাল্লা করে।কেউ কেউ টেলিফোনের লাইনে বা কারেন্টের খুঁটির মধ্যে বসে বিশ্রাম করতে পছন্দ করে।
কিছু পাখী সারাক্ষণ নিজেদের বাসা বানানোর জন্য দৌড় ঝাপ করে শুকনো ঘাস আর খড় কুটো যোগাড় করে।
মাত্র কয়েকদিন পাখী দেখলেই তুমি বুঝতে পারবে ওদের সবার মেজাজ মর্জি আর মজার আচরণগুলো। সবাইকে চিনে ফেলতে পারবে তখন।
গলার স্বরঃ প্রতিটা পাখীর ডাক আলাদা। পাখী দেখার শখ যাদের আছে তারাপাখীর ডাক উপভোগ করে।
সবার ডাক হয়তো গান না। সুরেলা না। কিন্তু ভাল লাগবে। কেউ মিষ্টি গলায় ডাকে। কেউ কর্কশ । কারো ডাকে মন উদাস হয়ে যাবে গরমের দুপুরে। ডাক শুনেই মাত্র কিছু দিন পর বুঝতে পারবে কোন পাখী ওটা, অনেকটা যেমন ফোনের রিঙ টোন শুনে বুঝতে পারো কে ফোন দিয়েছে তেমনই।
অনেকে পাখীর ডাক রেকড করতে পছন্দ করে। বাইরের দেশে প্রচুর অ্যালবাম পাওয়া যায় যেগুলো ভর্তি দারুণ সব পাখীর ডাক।
মোটামুটি এই হচ্ছে পাখী দেখার নিয়ম। একটা রঙিন গাইড বই থকলে ভাল হয়।
না হলে নোট বইতে সব লিখে রাখবে।
আর একটু সময় নিয়ে খুঁটিয়ে দেখবে। চুপচাপ থাকবে। বেশি শব্দ করলে ওরা আর আসবে না।
ওদের পরিবেশ নষ্ট হলে অন্য কোথাও চলে যাবে। সাথে বন্ধু বান্ধব থাকলে প্যাঁচাল পারার দরকার নেই। জোরে কাউকে ডাকবে না।উজ্জ্বল আর চকচকে রঙের পোশাক পরে পাখী দেখতে যাবে না। ওতে পাখী ভয় পায়।
ভোরের দিকে পাখী দেখার কাজটা ভাল। অনেক পাখী পাবে। বিকেলেও কিছুটা ভাল।
ঝড়ো বাতাসের দিনেও তেমন লাভ হয় না। ওরা বাসা থেকে বের হয় না।
গরমের দুপুরগুলোতেও তাই। ওরা ছায়া খোঁজে। বা জলের খুঁজে দূরে চলে যায়। আসলে গরমের
দিনে ওরা খুব বেশি উড়ে না বা হৈ হল্লা করে না। আর দল বেঁধে পাখী দেখতে যাবে না।
নিজের বাগানে বসে পাখী দেখা আর জংলা ভিটায় গিয়ে পাখী দেখা বেশ তফাৎ।
কারো ব্যাক্তিগত ভিটা বাড়িতে অনুমতি ছাড়া পাখী দেখতে যাবে না। কোথায় যাচ্ছ সেটা বাড়ির বড়দের জানিয়ে যাবে। কখন ফিরবে সেই ব্যাপারে একটা ধারনা দিয়ে যাবে।দূরে কোথাও গেলে নিজের জন্য জলের বোতল নিয়ে যাবে।
রোদ থেকে বাঁচার জন্য মাথায় নরম কাপড়ের টুপি পরে নেবে।
পায়ে বুট থাকলে ভাল। না থাকলে ভাল জুতো।
পাখীর বাসায় হাত দেবে না। বাসা থেকে ডিম বা বাচ্চা তুলে নেবে না।
ওতে ওদের জীবনচক্র নষ্ট হয়ে যায়। যেই দিমে তুমি হাত দেবে হয়তো
আর কখনই সেই ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়ে আকাশে উড়বে না।
আসলে সবচেয়ে ভাল নিজের বাগানে বসে পাখী দেখা । যেটা আমি করতাম।আজও করি।
শুধু গাছের ডালেই পাখী পাবে না। নদীর পাড়ে পাবে ভিন্ন জাতের পাখী। বড় বড় ঝোপের আড়ালে পাবে। পাবে দীঘল ঘাসের বনে।
আমি একজনকে চিনতাম সে শুধু পাখীর ডিম সংগ্রহ করে। বড় কাঠের বাক্সে ছোট ছোট খোপ। ওখানে নরম তুলোর মধ্যে নানা রঙের বিচিত্র বর্ণের পাখীর ডিম রেখে দিত সে।উপরে ছিল কাঁচের ঢাকনা।
আরেক জন পাখীর পালক জমাত।
বাঁধাই করা বড় খাতায় স্কচটেপ দিয়ে সেঁটে রাখত পাখীর পালক। নীচে লিখে রাখত পাখীর নাম।
আগেও বলেছি আর কোন শখ দিয়ে প্রকৃতির এত কাছে আসা যায় না।
পাখীদের আচার আচরণ দেখে অবাক হয়ে যাবে তুমি। ওদের জীবন যাপন বাসা বানানোর কায়দা সবই অদ্ভুত।
একটা ফলের দানা নিয়ে ওরা চলে যায় কত দূর। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে ওরা।
যারা শখের বশত পাখী দেখা শুরু করেছিল তাদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তী জীবনে বড় পক্ষীবিশারদ হিসাবে নাম করেছে।
পাখী দেখার এই শখ সারা দুনিয়ায় জনপ্রিয়। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যারা নিয়মিত পাখী দেখে তাদের মানসিক চাপ অনেক কম হয়। জটিল রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় না তারা।
বনে বাদারে ঘুরে পাখী দেখা ভাল একটা ব্যায়ামও হয় শরীরের জন্য।প্রকৃতি আর পরিবেশের জন্য জন্মে নতুন ধরনের মমতা।
আমরা আমাদের পিচ্চিবেলায় কত সুন্দর সব পাখী দেখতাম। আজকাল ওদের দেখা
যায় না। হারিয়ে যাচ্ছে। সহজেই আর চোখে পড়ে না হলুদ কোন পাখী। নীল আকাশে উড়ে
যায় না সবুজ রঙের টিয়া। দিঘীর কালো জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে না নীল রঙের মাছরাঙ্গা।
যার ঠোঁটে গাঁথা থাকে রূপার মত সরপুঁটি ।
ঘন বেত ফলের মত কালো সাঝবেলায় সন্ধ্যাপেচার ভূত ভুতুম ডাক শুনতে পাই না।
দুপুরবেলা বুনো তুলসির ফল খেতে আসে না পাটকিলে রঙের চড়ুই।
বিচিত্র এই পাখ পাখালির জন্য তোমাদের মধ্যে ভালবাসা জেগে উঠুক।
এই কামনা রইল।

মতামত জানান