চাঁদের বুকে এ পর্যন্ত কতজন হেটেছে জানেন?

উত্তর হবে ১২ জন।

কিন্তু, টুইন টাওয়ারের নর্থ টাওয়ার হতে সাউথ টাওয়ারে একটি মাত্র ক্যাবল তারে হেটে পাড়ি দিয়েছে শুধু একজন।

ভাবতে পারেন কি? শুধু মাত্র একটা ক্যাবল তারের  উপর ১৩৫০ ফুট উচ্চতায় একটা মানুষ হাটছে।সাথে নেই কোন সেফটি লক।হ্যা এই কাজটিই করেছিলেন ফিলিপ।তার পুরো নাম ফিলিপ পিট।

১৯৭৪ সালের ৭ আগষ্ট ২৪ বছর বয়সী ফিলিপ এ কীর্তি গড়েছিলেন ।ফিলিপ একপ্রান্ত হতে অপরপ্রান্তে গিয়েছিলেন আটবার।প্রায় ৪৫ মিনিট ক্যাবল তারে ছিলেন ফিলিপ।টুইন টাওয়ারের দুই ভবনের ছাদে তখন পুলিশ পৌছে গেছে। কিন্তু তিনি ধরা দেবেন না।তিনি ক্যাবলের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে হেটে গেলেন। হঠাৎ, ক্যাবলে বসে পড়লেন। আবার একপ্রান্ত হতে অপরপ্রান্তে গেলেন।পুলিশরা ভেবেছিলেন এবার হয়ত ফিলিপ ধরা দেবে। কিন্তু ফিলিপ ধরা দিলেন না।তিনি আবার ক্যাবলের মাঝখানে গিয়ে শুয়ে পড়লেন। ভাবতে পারেন একটা মানুষ ১৩৫০ ফুট উচ্চতায় একটা ক্যাবল তারের উপর শুয়ে আছে।ভাবতে পারেন। অবশেষে ক্যাবলের উপর হাটু গেড়ে বসে নিউয়র্কের মধুর সকালটাকে স্যালুট জানিয়ে ৪৫ মিনিট পর ফিলিপ ধরা দেন।পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলেও পরে তাকে যথাযথ সম্মান দেখিয়ে ছেড়ে দেন।এবং তাকে একটি পাস ইস্যু করা হয় যার সাহায্যে তিনি চাইলে টুইনটাওয়ার যতদিন ছিলো ততদিন পর্যন্ত এর ছাদে উঠতে পারতেন।

ছেলেবেলায় সার্কাস দেখতে গিয়ে দড়িতে হাটতে দেখে এই খেলার প্রেমে পড়েন ফিলিপ।একসময় বাবা বাড়ি থেকেও বের করে দেন। ফিলিপ থেমে যান নি। প্যারিসের রাস্তায় দুই গাছের মাঝে দড়িতে হাটা সহ রাস্তায় নানা খেলা দেখিয়ে বেড়াতেন ফিলিপ।একদিন ফিলিপের সাথে দেখা হয় অ্যালিক্সের। অ্যালিক্স ও প্যারিসের রাস্তায় গিটার হাতে গান গেয়ে অর্থ উপার্জন করতেন। ফিলিপ অ্যালিক্সের প্রেমে পরে যান। একদিন ফিলিপ ক্যাবলে হাটার অনুশীলন করছিলেন।তার সাথে তখন দেখা হয়  জিয়ান লুইসের।লুইস ভালো ছবি তুলতেন।  তিনি তার ফটোগ্রাফার লুইসের  সহায়তায় প্রথম হাইওয়্যার ওয়াক প্রদর্শন করেন প্যারিসের নটর ডেইম ক্যাথেড্রাল এ ১৯৭১ সালে।অনুমতি বিহীন কাজের কারণে তাকে জেলে যেতে হয়।
এরপর তিনি সিডনি হার্বার ব্রিজে তার হাই-ওয়াক প্রদর্শন করেছিলেন।এরপরই ১৯৭৪ সালের ৭ আগষ্ট টুইনটাওয়ারে হাটার কীর্তিটি গড়েন।

তিনি ই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন, মানুষের পক্ষে কিছুই অসম্ভব নয়।একাগ্রতাই সবচেয়ে বড় বিষয় তা বোঝা যায় এই মানুষটিকে দেখে।

The walk সিনেমাটা বলতে গেলে ফিলিপের সম্পূর্ণ বায়োগ্রাফি।

লেখতে বসার সময় The walk মুভিটির রিভিউ লিখব বলেই বসে ছিলাম।কিন্তু, আমার লেখাটাও বায়োগ্রাফিই হয়ে গেলো।

তাহলে মুভি নিয়েও কিছু কথা বলি,
“ছবির ট্রেলার দেখার পরই ছবিটা দেখার ইচ্ছা হয়েছিলো।
পরিচালক রবার্ট জেমেকিস, অভিনেতা জোসেফ গর্ডন লেভিট, গ্রাফিক্স প্যানেল সবার প্রতি হ্যাটস অফ।তারা হতাশ করেন নি।তারা ১৯৭৪ সালের সেই সকালের দৃশ্যটা চিত্রায়ন করে তুলে ধরেছেন খুব নিখূত ভাবে।ফিলিপ তার টুইন টাওয়ার মিশনের আগে রেকি করার সময় তার পায়ে লোহা ঢুকে যায়। আহত পা নিয়ে হাটা চলা স্টেপস গুলো সব নিখূত।”

মুভিটিতে ফিলিপের একটি কথা আমার কাছে সবচেয়ে শক্তিশালী লেগেছে “It is impossible… but I will do it “.

মুভিটা অবশ্যই দেখবেন। আপনার অবশ্যই ভালো লাগবে।

আর ফিলিপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিচের লিংকে যেতে পারেন।
https://en.m.wikipedia.org/wiki/Philippe_Petit
IMDb তে মুভিটির রেটিং প্রায় ৮ হলেও আমার কাছে ৯ ই পাবে।

মতামত জানান