ঘটনা ১৯৫১ সালের। হঠাত করে ফ্রাঞ্চের একটি শহরের প্রায় সব মানুষ পাগলের মত আচরণ করতে শুরু করে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে গিয়ে দেখা গেল, এই ঘটনার মূলে রয়েছে রুটি। কিভাবে সেই অভিশপ্ত রুটি পুরো শহরকে রীতিমত পাগলে পরিণত করেছিল? আজকে আপনাদের শুনাবো সেই গল্পই। দক্ষিণ ফ্রাঞ্চের একটি একটি নিরিবিলি শহর Pont-Saint-Esprit। ১৯৫১ সালের ১৫-ই আগস্ট হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন এই শহরের কিছু বাসিন্দা। তারা মূলত প্রচণ্ড বমি এবং পেটের পীড়ায় ভুগছিলেন। তাদের অবস্থা ধীরে ধীরে এক সময় খারাপ হতে শুরু করে। শরীরের তাপমাত্রা কমে বিপজ্জনক অবস্থায় চলে যায় এবং সেইসাথে পালস রেটও কমে যায় ভয়াবহভাবে। রোগীদের চেহারা ক্রমশ ফ্যাকাশে হয়ে আসে। অনেকে আবার ভুগতে থাকে অনিদ্রাতেও। এই ট্রমাতে একসময় তাদের হেলুন্সিয়েশন হতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এই অবস্থা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে অন্যদের মাঝেও। কোথাও দেখা যায় এক দম্পতিকে এঁকে অপরের পেছনে ছুড়ি নিয়ে ধাওয়া করতে। আবার কোথাও বা দেখা এক মেয়ে কোন কাল্পনিক বাঘের ভয়ে অধীর হয়ে আছে। এক ছেলে হঠাৎ করে ক্ষেপে গিয়ে তার নিজের মায়ের টুটি চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার চেষ্টা করে। হাসপাতালের বিছানায় শোয়ে থাকা রোগীরা নিজেদের কাল্পনিক উড়োজাহাজে ভাসছে ভেবে প্রচণ্ড হৈচৈ শুরু করে দেয়। এ মধ্যে একজন জানালা দিয়ে দোতলা থেকে নিচে ঝাঁপিয়েও পরে নিজের পা ভেঙে ফেলে। কিন্তু তারপরও তার পাগলামী কমেনা। সে সেই ভাঙ্গা পা নিয়েই আবার দৌড়াতে শুরু করে। আরেক লোককে দেখা রাস্তায় খুব ধীর পায়ে হাটতে হাটতে এমন ভাব করছে যেন সে কোন সরু তারের ব্রীজের উপর দিয়ে হাটছে।

ঘটনার প্রভাব শুধু মানুষের মধ্যেই সীমিত থাকেনা। এই ঘটনার প্রভাব শহরে জীব জন্তুদেরও উপরও গিয়ে পরে। হাসের দল পেঙ্গুইনের মতো মার্চ করে হাটতে থাকে, কুকুরেরা পাথরকে হাড় ভেবে কামরাতে থাকে।
শহরের কোথাও কোথাও দেখা যায় কিছু মানুষ হুট করে সমস্বরে গান গাইতে শুরু করেছে। একজন কৃষক আবার পাগল বনে গিয়ে প্রায় ১০০ কবিতাও লিখে ফেলে।
অবস্থা ক্রমেই আর ভয়াবহ উঠে। পুরো শহরই যেন একসময় পাগলের শহরে রুপান্তরীত হয়। হাসপাতালগুলো ততক্ষণের ভরে গিয়েছিল। ফলশ্রুতিতে নতুন রোগীদের দলবদ্ধ করে বিছানার সাথে বেধে রাখা হচ্ছিল। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে গিয়ে মেয়র আলবার্ট হারবার্ট বলেন, “আমি চোখের সামনে দেখলাম যে কিভাবে ধীরে ধীরে সুস্থ মানুষগুলো ক্রমশ উগ্র হয়ে উঠছিল। কিভাবে তারা তাদের বিছানা পত্তর উলটে ফেলে দিচ্ছিল, নিজেদের বিছানার নিচে লুকিয়ে ফেলছিল সেই ভয়াবহ হেলুন্সিয়েশন থেকে নিজেদের মুক্ত করার জন্য।”

এই ঘটনায় ততখনেই প্রায় ৩০০ জন আক্রান্ত হয়েছিল যার মধ্যে ৫ জন মারা গিয়েছিল। প্রায় সকল রোগীদের মধ্যে যাচাই করে দেখা যায়, একটি কমন দিক রয়েছে। তারা প্রতেকেই স্থানীয় একটি বেকারি থেকে রুটি ক্রয় করে খেয়েছিলেন। ডাক্তারদের ধারণা হয় সেই বেকারির রুটিগুলো কোন এক ধরণের ফাঙ্গাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল যা রোগীদের পেটে গিয়ে এরগোটিজমের সৃষ্টি করে। অনেকে অবশ্য এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের দিকে আঙ্গুল তুলে। তাদের ধারনা ছিল আদতে এই ঘটনা ছিল CIA এর একটি পরিক্ষা। যদিও CIA এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকার কখনই এই এই ব্যাপারটি স্বীকার যায়নি।

মতামত জানান