গ্রীক দেবী পার্সেফোন দুইটি ফর্মে পরিচিত, পার্সেফোন এবং কোর। কোর ছিলেন বসন্ত, গাছপালা ও উর্বরতার দেবী। অপরদিকে পার্সেফোন শব্দের অর্থ হল তিনি যিনি আলো ধ্বংস করেন। তিনি এই ফর্মে  ছিলেন পাতালুপুরির রাণী, মৃত্যু আনায়নকারী, ভয়ঙ্কর দেবী। এছাড়া তার ছিল নানা নাম; দ্য মেডেন, দ্য গ্রেট গডেস, দ্য পিওর ওয়ান, দ্যা মিস্ট্রেস, দ্য ড্রেড কুইন।

পার্সেফোন হলেন বারোজন অলিম্পিয়ানের দুজন; ডিমিটার ও জিউসের কন্যা। জিউস আকাশের দেবতা, দেবতাদের রাজা। ডিমিটার হলেন প্রকৃতির শক্তিশালী দেবী; কৃষি, ফসল, উর্বরতা তার ই নিয়ন্ত্রণে। উল্লেখ্য যে জিউস হলেন ডিমিটারের ছোট ভাই। তবে গ্রীক পৌরাণিক কাহিনীতে ভাইবোন বা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিয়ে এবং বংশবৃদ্ধি বেশ প্রচলিত ছিল।

পার্সেফোনের কৈশোরকাল সম্পর্কে আমরা প্রায় কিছুই জানি না, শুধু জানি যে তাকে অনেক যত্নে বড় করেছেন তার মা ডিমিটার। তাকে রক্ষা করার জন্য তার মা তাকে বড় করেছিলেন গ্রীক দেবতাদের ঐশ্বরিক বাসস্থান  মাউন্ট অলিম্পাসের বাগানে। বলা যায়, তিনি বেশ সুরক্ষিত পরিবেশে মায়ের সাথে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ই বড় হয়েছেন। তার বন্ধুরাও ছিল কুমারী। এ রূপে তিনি ছিলেন কোমল প্রকৃতির, সুন্দর, নিষ্পাপ, তরুণী; যার স্নিগ্ধ রূপের কোনো তুলনা ছিল না।

পার্সেফোনের প্রতীক হল, শস্যের শীষ, একটা ডালিম, একটা বাদুড়, নার্সিসাস ফুল এবং একটা মশাল। তাকে বিভিন্ন শিল্প কর্মে মা অথবা স্বামীর সাথে থাকা অবস্থায় দেখানো হয়। যেখানে তিনি চিত্রিত হতেন মেঝে দৈর্ঘ্য পোশাক,একটি শস্যের বীজ, একটি রাজদণ্ডএকটি মশাল এবং একটি ডালিম ধরা অবস্থায়।
স্বভাবতই আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে কে ছিল পার্সেফোনের স্বামী আর কেনই বা তিনি পৃথিবীতে বসন্তের দেবী হয়েও পাতাল পুরের অন্ধকারের রাণী হলেন?

তিনি চিত্রিত হতেন মেঝে দৈর্ঘ্য পোশাক,একটি শস্যের বীজ, একটি রাজদণ্ড,  একটি মশাল এবং একটি ডালিম ধরা অবস্থায়

পার্সেফোনের স্বামী পাতালপুরের দেবতা হেডিস। হেডিস হলেন ক্রোনাস ও রিয়ার আরেক সন্তান। তাই তিনি জিউস ও ডিমিটারের ভাই এবং পার্সেফোনের চাচা ও।
পার্সেফোনের সম্পর্কে টাইটান জ্যোতিষি অ্যাস্ট্রিয়াস দুইটি ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন
.তার কুমারীত্ব হঠাৎ এবং গোপনে চুরি করা হবে ;
. তার ভবিষ্যৎ স্বামী তার নববধূকে চুরি করবে।

প্রথম ভবিষ্যৎ বাণী সত্যি করতে অবদান ছিল সৌন্দর্য, প্রেম ও লালসার দেবী আফ্রোডাইট ও তার দুষ্টু পুত্র ইরোসের। বলা হয়, ইরোসের হাতে থাকত এক বিশেষ ধরণের ধনুক বাণএই তীর যাকেই আঘাত করত তার মনে ভালবাসা জন্ম নিত। একদিন ইরোস আর আফ্রোডাইট  প্রমাণ করতে চাইলেন তাদের প্রভাব থেকে কেউ ই মুক্ত নয় আর তাই ইরোস সমস্ত গ্রীকদের দিকে তার বিশেষ তীর ছুঁড়ল এবং সবার মনে বিশেষ একজনের প্রতি ভালবাসা সৃষ্টি হল, আর এই বিশেষ একজন ছিলেন পার্সেফোন, বসন্তের দেবী। ফলস্বরুপ সমস্ত দেবতা তাকে বিবাহের জন্য নানারকম উপহার পাঠাতে লাগলেন। প্রথমত গিয়েছিলস্বর্গের বার্তাবাহক হার্মিস আর একটা সোনার ক্যাডুসিয়াস উপহার দেন তাকে।তারপর সূর্য, আলো,নিরাময়, সঙ্গীতের দেবতা অ্যাপোলো দিতে চাইলেন লিয়ার। যুদ্ধের দেবতা এ্যারেস যিনি ছিলেন অ্যাফ্রোডাইটের প্রেমিক তিনি ও এসেছিলেন একটা বর্শা ও বর্ম নিয়ে। এছাড়া হেফাস্টাস; আগুন ও ধাতুর দেবতা, আফ্রোডাইটের স্বামী পর্যন্ত পাঠিয়েছিলেন একটি স্বর্ণের আংটি।

কিন্তু তারা সকলেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন কারণ ডিমিটার চেয়েছিলেন তার মেয়েকে চিরকুমারী অবস্থায় নিজের পাশে রাখতে।

তাই এ সমস্ত অবাঞ্চিত মনোযোগে তিনি বেশ হতাশ ই হয়েছিলেন। তাই তিনি পার্সেফোনকে ইতালির সিসিলিতে অবস্থিত এক গুহার গভীরতায় লুকিয়ে রেখেছিলেন যার প্রবেশদ্বার ড্রাগন কর্তৃক সুরক্ষিত ছিল। অল্পবয়সী এবং সাধাসিধে পার্সেফোন কোথায় আছে সে সম্পর্কে অন্য দেবতারা না জানলেও সবটাই জানতেন আকাশের দেবতা জিউস। জিউস তার স্ত্রী হেরার প্রতি অবিশ্বস্ততার জন্য কুখ্যাত ছিলেন। যেকোন সুন্দর মহিলার প্রতি আকৃষ্ট হওয়া এবং তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা ছিল তার জন্য নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার। তার নিজের মেয়ে; পার্সেফোন ও তার এ লালসা থেকে বাঁচতে পারেনি। অন্য একটি সংস্করণে অবশ্য বলা হয় পার্সেফোনের প্রতি  জিউসের এতোটা মোহের কারণ ইরোসের সেই তীর যা সমস্ত গ্রীকদের প্রতি নিক্ষিপ্ত হয়েছিল।
যাই হোক,এই মোহ যখন প্রবল থেকে প্রবলতর হচ্ছিল তখন জিউস একদিন এসে পৌঁছান সেই গুহায় যেখানে পার্সেফোনেকে রাখা হয়েছিল। তিনি গুহার মুখে থাকা ড্রাগনদের ঘুম পাড়িয়ে নিজেই ড্রাগনের রূপ নিয়ে গুহায় প্রবেশ করেন। এবং নিজের মেয়েকে প্রলুব্ধ করেছিলেন, এ সম্পর্কের মাধ্যমে জন্ম হয় জাগ্রিয়াসের। জিউস জাগ্রিয়াসকে সাথে করে অলিম্পাসে নিয়ে তার সিংহাসনে বসান। ছোট্ট জাগ্রিয়াস তার পিতার কিছু ক্ষমতা উত্তরাধিকার সূত্রেই পেয়েছিল। এ ঘটনায় হেরা বেশ ক্ষুব্ধ হয়ে একজন টাইটান কে নিযুক্ত করেন জাগ্রিয়াসকে মেরে ফেলতে। এ টাইটান জাগ্রিয়াসকে খেলনা দিয়ে তার বদলে  তার সমস্ত ক্ষমতা নিয়ে নেন। এরপর শক্তিহীন জাগ্রিয়াসকে প্রকৃতপক্ষেই ছিড়ে মেরে ফেলেন তারা। আর এভাবেই সত্য হয়েছিল পার্সেফোন সম্পর্কিত  প্রথম ভবিষ্যৎবাণী।
আর এ ঘটনায় ডিমিটার আরো চিন্তিত হয়ে ওঠেন।
কিন্তু নিজের কর্তব্যে আবদ্ধ ডিমিটার মেয়ের দিকে সবসময় নজর রাখতে পারেন নি।

গ্রীক পুরাণে সব ঘটনার ই একটা না একটা ব্যাখ্যা রয়েছে, তেমনি পৃথিবীতে ঋতুচক্রের আবর্তনের ব্যাখ্যা ও রয়েছে। আর এ গল্পের সাথে জড়িত রয়েছেন পার্সেফোন ও হেডিস।

হেডিস সাধারণত পাতালে থাকতেই  পছন্দ করতেন কদাচিৎ তিনি মর্ত্যলোক অথবা অলিম্পাস পর্বতে আরোহন করতেন।
হেডিসকে একদিন বিশাল এক আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুতপাতের জন্য পৃথিবী পৃষ্ঠে আসতে হয়েছিল, কেননা এ ঘটনায় পাতালপুরিতে প্রচুর হৈ চৈ সৃষ্টি হয়েছিল।
আগ্নেয়গিরিটি আপাত দৃষ্টিতে জিউস এর কাছে পরাজিত টাইটান টাইফনের প্রতীক ছিল।
যে সে সময় পাতালের এক গভীরতম অংশ টারটারাসে নির্বাসিত ও ক্রুদ্ধ ছিল। এসময় কোনো একবনে হেডিস এক নারীকে দেখতে পান যে মাথা নিচু করে ডালাতে ফুল তুলছে, বনের পরীরাও ছিল তার সাথে।তিনি ভাবলেন মর্ত্যের এতো সুন্দর স্নিগ্ধ সকাল ছিল শুধু মাত্র এই নারীর জন্য।তাই হেডিস ভেবে পেলেন না মেয়েটা ফুল তুলছে কেন, যখন এই সমস্ত ফুলের স্নিগ্ধতা তার স্নিগ্ধতার ই অংশ মাত্র!হেডিস নিজেকে সেসব হতভাগ্য ফুলের সাথে তুলনা করলেন যারা এই নারীর স্পর্শ পায়নি। তিনি ভাবতে লাগলেন, কি হবে এই অমরত্ব দিয়ে,কি হবে পাতালের রাজা হয়েযদি না এই নারীকে পাওয়া যায়।
ওই নারীর রূপে যেন সম্মোহিত হয়েছিলেন হেডিস। পরে হেডিস খোঁজ নিয়ে জানলেন এ নারী আর কেউ নয় পার্সেফোন-ই, জিউস ও ডিমিটারের কন্যা।
অন্য কিছু সংস্করণে বলা হয়, হেডিস যেদিন মর্ত্যে অবতরণ করেন সেদিন ইরোস তার তোর ছুঁড়ে দিয়েছিল হেডিসের দিকে আর তাই তিনি পার্সেফোনের প্রেমে পরে যান। এতোদিন মর্ত্যে না থাকায় খুব সম্ভবত ইরোসের তীরের প্রভাব থেকে মুক্ত ছিলেন তিনি।

তো যাইহোক, পাতাললোকে ফিরে হেডিসের কিছুই ভাল লাগছিল না, দিনরাত শুধু পার্সেফোন কেই মনে পরত তার, শেষে একদিন স্থির করলেন এই নারীকে তার জয় করতে হবেই যত বাধাই আসুক না কেন। অবশ্য হেডিস এ ও জানতেন ডিমিটার, তার বোন কখনোই পার্সেফোনকে তার হাতে তুলে দিতে রাজি হবে না। পাতালপুরির এই ভয়ঙ্কর অন্ধকার ও শীতলতায় কখনোই পাঠাবে না তার মেয়েকে। তাই হেডিস গিয়ে ধর্ণা দেয় জিউসের কাছে, জিউস এ প্রস্তাব সানন্দেই গ্রহণ করেন এবং সাহায্য করতেও রাজি হন। জিউসের অনুমতি পেয়ে একদিন পাতালরাজ হেডিস কালো রঙের ঘোড়ায় টানা  রথে ঝড়ের বেগে মর্ত্যে এলেন।সেদিন ও ফুল তুলছিলেন পার্সেফোন। মাটি ফুঁড়ে হেডিসের রথকে বের হতে দেখে বিস্ময়াভিভূত  হয়ে পরেন পার্সেফোন। কিন্তু বিস্ময় একলহমায় ভয়ে পরিণত হল। একহাতে ঘোড়াদের লাগাম টেনে অন্য হাতে কাঁধে উঠিয়ে নিলেন পার্সেফোনকে। ভয়ে আর্তনাদ করে উঠল সে। এ আর্তনাদ শুনেছিলেন, জিউস, জাদুবিদ্যার দেবী হেকেটিসূর্যের দেবতা হেলিওস এবং ডিমিটার। জিউস এ চিৎকারে বেশ খুশিই হয়েছিলেন, অপরদিকে হেকেটি শুধু শুনতেই পেয়েছিলেন কিছুই দেখেন নি তিনি, হেলিওস কিন্তু আকাশ থেকে সবটায় দেখেছিলেন।

ডিমিটারের মন তখন চিন্তা আর দুঃখে কুঁকড়ে গেছে। তিনি সারা পৃথিবী তন্ন তন্ন করে খুঁজলেন তার মেয়েকে, কিন্তু তাকে ফিরতে হল রিক্তহস্তে। জিউস সব জেনেও না জানার ভান করে বসে ছিলেন। ডিমিটারের কষ্ট দেখে তার সাহায্যে এগিয়ে এলেন হেকেটি জানালেন,তিনিও শুনেছেন এ চিৎকার,কিন্তু কিছুই দেখতে পাননি। তবে হেলিওস আকাশে থাকায় সবটায় দেখেছে সে। ডিমিটার তাই হেলিওসের কাছে যান মেয়ের সন্ধানে। ডিমিটারের অনুরোধে হেলিওস তাকে  জিউসের ষড়যন্ত্র আর হেডিসের অপহরণের বেপারে জানান। হেলিওস অবশ্য হেডিস এর পার্সেফোনের প্রতি ভালবাসার কথাও জানত, আর তা ই বলল ডিমিটারকে,আরো বলল, এমন স্বামী আর পার্সেফোন পাবে না। কিন্তু এতোকিছু শুনেও খুশি হতে পারলেন না ডিমিটার।
ডিমিটার এই ষড়যন্ত্রের কথা বার বার ভাবতে লাগলেন আর ব্যথায় কেঁদে উঠল তার মন। না জানি তার কোমল নিষ্পাপ পার্সেফোন কি কষ্টেই আছে ওই পাতাল পুরিতে! এর চেয়ে হয়ত পার্সেফোন মারাগেছে জানলেও তার কম কষ্ট হত। আগের চেয়েও বেশি ভেঙে পড়লেন তিনি এবার। করলেন কঠোর প্রতিজ্ঞা, পার্সেফোনকে ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত তিনি অলিম্পাসে পা রাখবেন না, মর্ত্যে জন্মাতে দেবেন না এক দানা শস্য ও।
এ প্রতিজ্ঞায় চারদিকে হাহাকার শুরু হয়ে গেল, দূর্ভিক্ষে বহু প্রাণী মারা গেল।
অন্যদিকে পার্সেফোন প্রথমে পাতালে এসে কিছুতেই মানিয়ে নিতে পারছিলেন না পাতালপুরির অন্ধকার আর কালি ময়লায়। কিন্তু তাকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করছিলেন হেডিস। হেডিস প্রকৃতপক্ষেই ভালবেসেছিলেন পার্সেফোনকে। তার প্রতি যত্ন বা সম্মানের কোনো ত্রুটি রাখেননি পাতাল রাজ। অবশেষে একসময় হেডিসের ভালবাসার কাছে হার মানলেন পার্সেফোন। তিনিও ভালবেসে ফেললেন হেডিসকে। হোমার এজন্য ই তাকে পাতালের রাজকন্যা বলে অভিহিত করেছেন।দুজনের সংসার কিন্তু পাতালে ভালই চলছিল।

পার্সেফোন ও হেডিস


এদিকে প্রাণিকুলের মৃত্যু জিউসকে বেশ ব্যথিত করছিল। তিনি নিজে এলেন ডিমিটারকে বুঝাতে কিন্তু কোন লাভ হল না। ডিমিটার তার প্রতিজ্ঞায় অনড়। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই হার্মিসকে হেডিসের কাছে পাঠালেন জিউস। হার্মিস তখন বয়ে নিয়ে গেলেন এ জুটির বিচ্ছেদের বেদনার খবর। হার্মিস জানালেন দেবরাজ আদেশ করেছেন,পার্সিফোনকে তার মায়ের কাছে ফেরত পাঠাতে। সব ঘটনায় একে একে খুলে বললেন হার্মিস তাদের। বিচ্ছেদ বেদনায় কেঁদে উঠল দুজনের মন। পার্সেফোনে স্বামীর হাতে বেদানা তুলে দিয়ে প্রতিজ্ঞা করলেন তিনি আবার ফিরে আসবেন। বেদানা তুলে দেওয়া ছিল গ্রীক পুরাণে প্রতিজ্ঞা করার প্রতীক।

জিউস পরেছিলেন ঘোর চিন্তায়, একদিকে যেমন ছিল ক্রোধাক্রান্ত ডিমিটার, যাকে ছাড়া প্রাণীকুলের খাদ্য চাহিদা মেটানো প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে ছিল বিরহকাতর এক জুটিঃ হেডিসপার্সেফোন। জিউস শেষে  তার মা রিয়াকে পাঠালেন কিছু একটা ব্যবস্থা করতে।রিয়া ডিমিটারকে অনেক বুঝিয়ে রাজি করালেন এক শর্তে।শর্তটা ছিল এমন যে, বছরের ৬ মাস পার্সেফোন থাকবে ডিমিটারের কাছে মর্ত্যে এবং বাকি সময় থাকবে হেডিসের কাছে পাতালে। তবে ডিমিটার ও জুড়ে দিলেন আরেক শর্ত বললেন, পার্সেফোন যতদিন পাতালে থাকবে পৃথিবীতে ফসল জন্মাতে দেবেন না তিনি।

তারপর থেকে বছরে ৬মাস পৃথিবীতে চলে উষ্ণতা, ফুল ফসলের রাজত্ব। এই ছয় মাস ডিমিটারের কাছে থাকেন পার্সেফোন। যখন তিনি চলে যান হেডিসের সান্নিধ্যে তখন ডিমিটারের দুঃখে শীতল থেকে শীতলতর হয়ে ওঠে পৃথিবী।
আর এভাবেই গ্রীক পুরাণে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে ঋতু চক্রের রহস্যের।

মতামত জানান