জাতি, ধর্ম, বর্ণ এই বিষয় গুলো নিয়ে লেখালেখি অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছি। তবু আবার কলম হাতে তুলে নিতে বাধ্য হলাম। যখন দেখলাম তারা ক্ষত্রিয় রা সরাসরি অন্যদের বলছে যে, তোমরা নিম্নবর্ণ। আমি বলি আমি মানুষ, আমার ধর্ম মানব ধর্ম। আসো এক প্লেটে একসাথে বসে শূদ্র, ক্ষত্রিয়, হিন্দু, মুসলিম সবাই ভাত খাই। এক বাংলামায়ের গর্ভে ই সবার জন্ম আমাদের। এক মাটি থেকেই এসেছি আবার সেই এক মাটিতেই মিশে যাব সবাই। তাহলে কিসের এতো বিভেদ বলোতো আমায়। ধর্ম আরে সেটাতো তোমার মনের বিশ্বাস। উপাসনা বা ইবাদত সেটা তোমার বিশ্বাস কে প্রকাশের মাধ্যম। তোমার বিশ্বাস তুমি করবে তোমার বিশ্বাস কে তুমি তোমার মতো করে প্রকাশ করবে আর আমার টা আমি আমার মতো করে করবো। কিন্তু তোমরা যে উচ্চ বংশ, উঁচু জাতি আর নিম্ন বংশ, নিচু জাতির বিভেদ তৈরি করেছো ইহা তোমার ধর্মের কোন গ্রন্থে পেয়েছো???
আজ মোল্লা বা ফকির বংশ শুনলে যে সাইয়্যেদ সাহেব বা চৌধুরী সাহেব নাক সিটকান আপনার কোরআন হাদিসে কি আপনাকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? আর ক্ষত্রিয় রয় বা ব্রাহ্মণ সাহেব যে নিচু জাত বলে ওদের কে দূরে সরাচ্ছেন এটা ই বা বেদ বা গীতার কোন অংশে লেখা আছে? আসুন এগুলো ছেড়ে মানুষ কে মানুষ বলে ভাবতে শিখি। বাসে বা অফিসে একজন হিন্দু ভাইয়ের পাশে বসতে যে মুসলমান ভাই নাক সিটকান সেই মুসলমান ভাই এর ই আবার হিন্দু ধর্মের অনেক নায়িকা কে না দেখলে ভালো ই লাগেনা। আবার দিনের বেলায় যে ক্ষত্রিয় সাহেব অন্যদের কে নিম্নজাত বলে গালি দিচ্ছেন, মুসলিম কে ঘৃণা করছেন, সেই ক্ষত্রিয় সাহেব ই রাতের আধারে পতিতার ঠোঁটে চুম্বন করছেন। আচ্ছা চুম্বন করার আগে কি জেনে নিয়েছিলেন তার জাত বা ধর্ম কি? আশাকরি আমার কথা আপনারা বুঝতে পেরেছেন। যদি বোঝেন তাহলে ছাড়ুন এগুলো, আর কতো? আসুন মানুষ হই আগে পরে ধার্মিক হবো। ধার্মিক হয়ে কোন লাভ নেই মানুষ না হতে পারলে।

মতামত জানান