সময়কাল ১৫৩১। স্প্যানিশের একজন অভিযাত্রিক, জুয়ান মারটিনেজ তখন মৃত্যু শয্যায় শায়িত। একদম মৃত্যুর প্রাক্কালে তিনি একটি অদ্ভুত তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন একটি অদ্ভুত নগরীর কথা,  সাউথ আমেরিকার গভীরে যার অবস্থান। এটি ছিল একটি বিচ্ছিন্ন শহর যা শত শত বছর ধরে মানব সভ্যতার চোখের আড়ালেই রয়ে গিয়েছিল। একবার জঙ্গলে হারিয়ে গিয়ে জুয়ান মারটিনেজ এই শহরটির দেখা পান। তিনি জানান যে শহরটির মানুষ খুবই বন্ধুপরায়ন এবং নিত্যান্তই শান্তি প্রিয়। অন্যান্য বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর মতো  এরা মোটেই হিংস্র না। সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে এই বিচ্ছিন্ন শহরটি ছিল সম্পদে পরিপূর্ণ।

এল ডোরাডো
রহস্যময় নগরী এল ডোরাডো

এতোটাই সম্পদশালী যে তারা পুরো শহরেকেই সোনায় মুড়িয়ে রেখেছিল। অদ্ভুত একটা জলাশয় ছিল এই শহরে, যেটি ছিলো সোনালি পানিতে পরিপূর্ণ। এই হচ্ছে জুয়ান মারটিনেজ এর ভাষায় রহস্যময় নগরই এল ডোরাডোর বর্ণনা, যা পরবর্তীতে অনেক কথা, উপকথা, গল্প এবং আলোচনা সমালোচানার  জন্ম দেয়।এরপর ধীরে ধীরে অনেক বছর কেটে গেছে। রহস্যময় নগরী এল ডোরাডো নিয়ে যেমন বেড়েছে মানুষের আগ্রহ সেই অনুপাতে হয়েছে প্রচুর মনগরা গল্পের সূচনা।  ধীরে ধীরে এই কারণেই এল ডোড়াডোর অস্থিত্য নিয়ে তৈরি হয়েছে দোটানাও। কারও কারও মতে এই নগরীর পুরো ব্যাপারটাই ছিল একটা মনগড়া গল্প মাত্র। আদতে এর কারণ এর কোন অস্থিত্য নেই।
সত্যিই কি তাই?  এই প্রাচীন স্বর্ণ নগরী এল ডোরাডো কি তবে নিছকই কোন কল্প গল্প? নাকি কোথাও না কোথাও এর অস্তিত্য আছে?
সে যাই হোক , মারা বরং জেনে নেই  জুয়ান মারটিনেজ এল ডোরাডোতে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন কিভাবে। কিভাবেই বা তিনি পেয়েছিলেন এর সন্ধান।

১৬ শতকের শুরুর দিক থেকেই রহস্যময় নগরই এল ডোরাডো নিয়ে নানা ধরনের কানাঘুষা চলতে থাকে। এমনকি  অত্যন্য বিশ বারের মতো অভিযানও চালানো হয়েছিল এই নগরির খোঁজে। অধিকাংশ অভিযাত্রীদের কাছেই মনে হয়েছিল যে এর নিশ্চয় কোন বাস্তব অস্তিত্য আছে। তাদের বিশ্বাসের অন্যতম কারণ প্রাচীন আমেরিকার কিছু মানচিত্র, যেখানে স্পষ্টই এই গুপ্ত শহরকে চিহ্নিত করা ছিল।

 

এল ডোরাডোর একটি কাল্পনিক চিত্র।

জুয়ান মারটিনেজ, যে এই শহরকে সচক্ষে দেখার একমাত্র দাবিদার জানিয়েছিলেন যে তিনি Diego de Ordaz এর নেতৃত্বে এমনই একটি অভিযানে কোনভাবে মূল দল থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পরেন। Diego de Ordaz, Orinoco নদীর অববাহিকায় এই নগরির অণুসন্ধান  করে কোন কিছু না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসেন। অন্যদিকে জুয়ান মারটিনেজ একটি ছোট নৌকাতে করে নদীর স্রোতে ভাসতে একটি অদ্ভুত জায়গায় এসে পড়েন।  সে জায়গায় তিনি পৌছলে সেখানকার আদিবাসীদের নজড়ে পড়ে যান তিনি, যারা তাকে চোখ বেধে তাদের তাদের সম্রাট ইঙ্গা এর কাছে কাছে নিয়ে যায়।
সেখানে  আদিবাসীরা অবশ্য বেশ ভালো ব্যবহারই করে তাঁর সাথে, সম্রাট তার সাথে  রাজকীয় অতিথির মতো আচরণ করার নির্দেশ দেন। ফলে চারদিকটা বেশ ভালো করে ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়ে যান জুয়ান মারটিনেজ। সে অদ্ভুত নগরীর প্রাসাদ থেকে ধরে জলাধার প্রায় সবকিছুই ছিল স্বর্ণ খচিত।

Image result for el-dorado

 

অবশ্য প্রাচীন আমেরিকার ইতিহাস অনুযায়ী এটা অকল্পনীয় কিছু নয়। কারণ ধারনা করা হয়ে থাকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১৮০ টন স্বর্ণ এবং ১৬০০০ টন রৌপ্য এসব অঞ্চল থেকে লুট করে নেয়া হয়েছিল। অবশ্য এই হিসাবটাও অনুমান নির্ভর কারণ সেগুলোর অধিকাংশই গলিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় পাচার করে দেয়া হয়েছে।
যাহোক, জুয়ান মারটিনেজ এর কথায় ফিরে আসি। তিনি এল ডোড়েডোতে ঠিক কতদিন ছিলেন, ফিরে এলেন কিভাবে এবং কেনইবা তিনি একদম মৃত্যুর প্রাক্কালে গিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছিলেন সেসব কথা না হয় আরেকদিন বলব।  
আজকের লেখা শেষ করি একটা  মজার তথ্য দিয়ে।
জুয়ান মারটিনেজ কিন্তু এই রহস্য নগরিকে  এল ডোরেডো নামে ডাকেননি, তিনি নাকি এই নগরীর অধিবাসীদেরকে এই নগরীকে “মানোয়া” নামে ডাকতে শুনেছিলেন, তাই তিনি এই শহরকে  “মানোয়া” বলেই অভিহিত করেন।

মতামত জানান