আমরা প্রায় সকলেই ঘুমোতে ভালোবাসি। আর যাই হোক, যদি কোন কারণে আমাদের ঘুমটা ঠিকঠাক মতো না হয় ঐদিনটাই যেন মাটি হয়ে যায়। ঠিক যেসময় এই লেখাটি হচ্ছে তখন আমরা অধিকাংশ মানুষ কোভিড-১৯ ভাইরাসের আক্রমণে রীতিমত ঘরবন্দি। এই সময়ে সময় কাটাতে ঘুমই যেন কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের পরম বন্ধু। আর তাই খিচুড়িতে এবার নিয়ে হাজির হলাম এই “ঘুম” কে নিয়ে নানান জানা অজানা কিছু তথ্য নিয়ে।

 

হিসাব করলে দেখা যায় আমরা আমাদের জীবনের এক তৃতীয়াংশ সময়ই ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেই। একজন মানুষের গড় আয়ু ৭৫ বছর ধরলে এই ঘুমের পরিমাণটা দাঁড়ায় ঠিক ২৫ বছর! 

বাবা – মায়ের কোল জুড়ে যখন নতুন শিশু আসে, তখন শুরু হয় বাবা-মায়ের বিনিদ্র রজনী কাটানোর পালা। বাচ্চা জন্মের প্রথম দিন থেকে দুই বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত মা – বাবা প্রায় ৬ মাসের সমপরিমাণ সময় না ঘুমিয়ে কাটান। 

এইযে এতো ঘুমের কথা বলছি, এবার না ঘুমানোর একটা কথা বলি। একবার এক লোক টানা ১১ দিন না ঘুমিয়ে বিশ্ব রেকর্ড করেছিলেন। 

বিশ্বরেকর্ড হোক আর যাই হোক, না ঘুমিয়ে থাকা কিন্তু মোটেই কোন ভালো কাজ নয়। প্রতিদিন নুন্যতম ৭ ঘন্টা না ঘুমালে আপনার আয়ু কমে যেতে পারে উল্লেখ্যজনকভাবে। 

ডলফিন আবার ঘুমের দিক থেকে খুব চালাকি করে। এরা ঘুমের সময় অর্ধেক মগজকে ঘুম পাড়িয়ে বাকি অর্ধেক মগজকে দিব্বি সচল করে রাখে। 

ঘুমানোর কথা হচ্ছে আর শামুকের কথা না বললে কি হয়? শামুকেরা একটানা তিন বছর পর্যন্ত ঘুমোতে পারে। 

কেউ যদি আপনার সামনে ঘুমিয়ে থেকে হঠাৎ হাঁচি দিয়ে উঠে, তাহলে বুঝবেন লোকটা আসলে ঘুমিয়ে নেই, ঘুমের ভান ধরে আছে। কারণ ঘুমিয়ে থেকে হাঁচি দেয়া সম্ভব নয়। 

একজন মানুষ কোন খাদ্য গ্রহণ না করেও দুমাস অবদি বেঁচে থাকতে পারে কিন্তু ঘুম ছাড়া ১০-১১ দিন পেরোলেই অক্কা। 

জিরাফ আবার এই দিক থেকে খুব সুবিধায় আছে। সারাদিনে মাত্র ৫ থেকে ৩০ মিনিট ঘুমিয়ে নিলেই এদের কাজ চলে যায়। 

সবশেষে বলি নিয়মিত ঘুমানোর অভ্যাস করুন। না ঘুমোলে আমাদের মগজ ছোট হয়ে যায় আর সেই সাথে কার্যক্ষমতাও কমে যায়।

মতামত জানান