ধারাবাহিক জঙ্গলে মঙ্গল নেই - 3 পর্ব (4)

তিন

সবুজ ধানিজমির মধ্যে দিয়ে সরু একটা পথ চলে গেছে জঙ্গলে। মজিবরও আসিফ সেই পথ ধরেই হাঁটছে।জাগায়গাটা কেমন শুনশান নীরবতায় ঘাপটি মেরে আছে।মনে হচ্ছে গাছের আঁড়াল থেকে কেউ উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে আর তাদের উপর নজর রাখছে।সুযোগ পেলেই ঝাপিয়ে পরবে।এ গাঁয়ে তো মজিবর আর ওই পাগলটা ছাড়া অন্যকোন লোক চোখে পরলো না।যতদূর চোখ যায় সবুজ ধান খেত।এগুলোই বা কে আবাদ করলো।তাহলে কি এখানে আর কেউ থাকে না। মজিবর কে কিছু জিগ্যেস করবো, না থাক এবার যদি আবারও অপ্রিতিকর কিছু ঘটে!লম্বা একটা ফিতা দিয়ে জমি মাপতে শুরু করলো আসিফ।মজিবর তাকে সাহায্য করছে। ঘন সবুজ বন,নানা রঙের পাখপাখালি আর সুরেলা কণ্ঠে পাখির গান মুহূর্তেই নিস্তব্ধতার দেয়াল ভেঙে দিলো।কলকল শব্দ শুনতে পেয়ে একটু সামনে এগিয়ে দেখালো পাহাড়ি ঝর্ণা। স্বচ্ছ পানি কলকলিয়ে ছুটে যাচ্ছে ধনু নদীর বুক ভেসে।হাত মুখে একটু পানির ছিটা দিলে কেমন হয়।আসিফ নদীতে নামবে এমন সময় গাছের আঁড়ল থেকে ভেসে এলো খিলখিলিয়ে হাসির শব্দ । আসিফ চমকে গিয়ে বলল কে? কে ওখানে? হাসির খিলখিল শব্দটা আরো বাজে ভাবে আসছে।একটু এগিয়ে দেখলে ভালো হতো। কিন্তু সে সাহসটুকু আসিফ পাচ্ছে না।অচেনা অজানা পথ ঘন জঙ্গল কি থেকে কি হয়ে যায় বলা মুশকিল। চোর ডাকাতের টোপও হতে পারে। হয়তো ছলাকলা করে দিক ভুলাতে চাচ্ছে। কিন্তু মজিবর কোথায় গেলো তাকে তো দেখছি না।এর মধ্যে হাসিটাও আর শোনা যাচ্ছে না।আবারও সব কেমন থমকে গেছে।ফোন সাথেই ছিলো কিন্তু সেটাও এখন খোঁজে পাচ্ছি না।যে পথে ধরে এসেছিলাম সেটাও আর দেখা যাচ্ছে না।বনের ভিতর আলো আঁধারী খেলা করছে।খিলখিল হাসির শব্দটা এখন সামনে থেকে আসছে।ওই পাগলটা।হ্যাঁ তাই তো ধীরে ধীরে কাছে আসছে আর বলছে, কইছিলাম না সব মিথ্যা… সব…মিথ্যা। এইহানে মিথ্যারা খুব ভয়ংকর। তারা হাসে, কাঁদে, হাঁটে, বেড়ায়।সব মিথ্যা, সব…মিথ্যা। এইখানে মিথ্যারা খুব ভয়ংকর। আসিফ চোখে অন্ধকার দেখতে দেখতে পরে গেলো মাটিতে।

দুপুরে সূর্যটা উপুর হয়ে আছে।তেমন তাপ নেই। অথচ এসময় রোদের তাপে ঠা ঠা করার কথা।মজিবর খাটের পাশে দাঁড়িয়ে আছে।বিদ্যুৎ না থাকায় ভেপসা একটা গরমে আসিফের শরীর ঘেমে যাচ্ছে।ছোপ ছোপ পানির ফোটা কপাল বেয়ে বালিসে পরছে।আস্তে আস্তে চোখের পাতা মেলে দিলো সে।ভয় ঢর নেই।শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে। মজিবর তাকে আস্বস্ত করলো, আপনে অহন ঠিকই আছেন। আর কোন চিন্তা নাই।অহন ঘুমান আমি পরে আসমু আবার।স্বাভাবিক হতে আরো কিছু সময় লাগলো তার।তারপর থেকে ওই পাগলটা কে আর কোথাও দেখা যায়নি।নিয়ম করেই কাজ চলছে।ম্যাপ আঁকা, গেইস্ট হাউজের ডিজাইন করাসহ আরও কত কাজ।মজিবরও থাকছে তার কাছে কাছে।বেশ কয়েকদিন কেটে গেলো।অমিতাভ আর ফোন দিচ্ছেন না।দিবেনই বা কিভাবে।এখানে ফোনের নেটওয়ার্ক নাই।তবুও শেষ চেষ্টাটুকু করতে দোষ কি।ফোনটা হাতে নিয়ে কল করলো অমিতাভ স্যারের নাম্বারে।কল যাচ্ছে না।একা একা এখানের পরিস্থিতি মোটেও ভালো ঠেকছে না তার।লম্বা বারান্দায় দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে তিন তলার ছাদে আসলো আসিফ।হয়তো এখানে নেটওয়ার্ক পাওয়া যেতে পারে কিন্তু এখানেও নেই ।ছাদ থেকে দূরের অনেকটা দেখা যাচ্ছে।পেটের মধ্যে ক্ষুধাও লেগেছে।সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে সে কিছু একটা দেখতে পেলো মনে হলো।একজোড়া মুরগী হাতে নদীর ঘাটে যাচ্ছে মজিবর।অন্য হাতে একটা কাঁচের জগ।পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে নেমে আসা পানিগুলো এই নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়।মজিবর নদীর পানিতে চুব দিয়ে মুরগীগুলো ওপরে তুললো।তারপর দাঁতে কামড় দিয়ে মুরগির গলা ছিড়ে জগের মধ্যে রক্ত ভরতি করলো।তারপর সেই রক্ত একটা গ্লাসে তুলে রাখলো।যে গ্লাসে করে তাকে শরবত দেওয়া হয়।এই দৃশ্য দেখে নিজেকে আর স্থীর রাখতে পারলো না আসিফ।গতগত করে বমি করলো সে।মাথাটা ঝিমঝিম করছে।বিছানায় ফিরে শুয়ে পারতেই রাজ্যের ঘুম চোখে এসে বসলো।বিকেল বেলা মজিবর এসে তাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে খাবার সামনে দিয়ে বলল,নেন এইহানে মুরগির মাংস ভাত আর ছোট মাছের চরচরি আছে খাইয়া লন।আসিফ বার কয়েক খাবারের দিকে তাকিয়ে বলল,আচ্ছা আপনি রেখে যান আমি পরে খেয়ে নিবো।আর শুনুন আমার ফোনে নেটওয়ার্ক নেই।এখানে কোথাও মোবাইল টাওয়ার আছে? মিহি একটা হাসি দিয়ে বললো, নাহ এই গ্রামে তো এগুলোর প্রয়োজন পরে না,তয় বলি গাঁও মোবাইলে কথা কওন যায়।ওইহানে দোকান আছে।কিন্ত আইজ যাওন যাইবো না। বুধবারে এই বাড়ি থেকে বিকালবেলা বাইর হওন নিষেধ আছে।আমি কাইল লইয়া যামু, আপনে কয়ডা দানা পানি মুখে দেন।আমি ফলের লাল শরবত আনতাছি।আসিফ কিছু বলার আগেই চলে গেলো সে।নিজ চোখে দেখা সত্যিটা মনের ভেতর কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। লাল শরবত সে কখনোই খাবে না।

সূর্যটা ধীরেধীরে ডুবতে বসেছে।চারপাশে আন্ধার আসতে শুরু করছে। এখানে সন্ধ্যা নামার আগেই সন্ধ্যা নেমে যায় আর তার লেজ ধরে চলে আসে গভীর রাত।আসিফ ব্যাগ গুছিয়ে শহরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। এখানে তার আর মন টিকছে না।নির্জন পথঘাট আর অদ্ভুত সব কর্মকান্ড তাকে প্রতিনিয়ত ভাবিয়ে তুলেছে।দরজা দিয়ে হুট করে ঘরে ঢুকলো মজিবর।এক হাতে তেলবাতি আর অন্য হাতে লাল শরবত।আঁতকে উঠলো আসিফ।ভয় পাইছেন? ভয় পান কেন, ভয় পাইয়েন না এইহানে ভুত, প্রেত, পিশাচ কিচ্ছু নাই।আর থাকলেও কাছে আইবো না।কেন আসবে না?কাঁপা কাঁপা কন্ঠে প্রশ্ন করলো সে।হেই কথা কওন নিষেধ আছে। তয় আর কয়দিন থাকলে সবই বুঝবেন।আর শুনেন এইহানে রাইতের বেলা চোর ডাকাতের বদনাম আছে।হেরা মানুষ জেন্ত কাইট্টা ফালায়।ঘরে নতুন মানুষ আছে জানলে হামলা করতে পারে।আপনে শহরের মানুষ আপনারে সব বুঝাইয়া কইতে হইবো না।দরজা জানলা ভালো কইরা খিল দিয়া ঘুমাই পরেন।খবরদার রাইতে ঘর থেকে বাইর অইবেন না কিন্তু।এবার তার গলার আওয়াজটা একটু অন্য রকম ছিলো।বেশ মোটা আর খরখরে।কথার সাথে চোখেও ছিলো সাবধানতার ছাপ।সারাদিন ঘর থেকে না বের হলেও সন্ধ্যা নামলেই সে আর ঘরে থাকে না।বাড়িতে ঢুকার পথে লোহা আর পাহাড়ি কাঠের তৈরী একটা বড় গেইট আছে।সেখানে বসে রাত পার করে দেয়।ভোরে আলো ফোটার আগেই ঘরে প্রবেশ করে।মজিবর ঘর থেকে চলে যেতেই হাত পা ছেড়ে বসে পরে আসিফ।নিজেই নিজের সাথে বিরবির করছে।কি হচ্ছে এখানে। একা একটা বাড়িতে নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হচ্ছে। মা কেমন আছেন, অফিসের কি খবর কারো কোন খোঁজ পাচ্ছি না।আর স্যারই বা কোন খরব নিচ্ছেন না কেন।বিষয়টা নিয়ে তার মাথায় আরো প্রশ্ন খেলে যাচ্ছে। এসব কথা ভাবতে ভাবতে জানালা বন্ধ করতে গিয়ে সে থমকে গেলো।মজিবর তেল বাতিহাতে নদীর শান বাধানো ঘাটে দাঁড়িয়ে আছে, কালো ছায়ার মত দুই জন লোক নদী থেকে উঠে এলো।ওরা তিন জন একসাথে দাঁড়িয়ে কি যেন পরামর্শ করছে।কথা শেষে লোকগুলো আবার নদীর জলের তলায় চলে যায়।আসিফ চমকে উঠে বললো, এটা আমি কি দেখলাম।ওই লোকগুলো কারা? আসিফ মোটেও ভুত বিশ্বাসী নয়।সে ধরে নিলো তারা ডাকাত দলের লোক।মজিবর তাদের কাছে এখানের কোন খবর পাচার করেছে হয়তো।প্রানের ঝুঁকি আছে ভেবে অন্য কোথাও লুকিয়ে থেকে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নিলো আসিফ। জানালাটা বন্ধ করে দরজাটা বাহির থেকে জড়িয়ে দিলো।পা টিপে টিপে এগিয়ে চলছে লম্বা বারান্দা দিয়ে।সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠে একটা পরিত্যক্ত রুম দেখতে পেলো।কিছু ভাঙা চেয়ার টেবিল আর উড়ে আসা ধুলোয় স্তুপ হয়ে আছে ঘরটা।দেখেই বুঝা যাচ্ছে এক সময় এটা বেশ রাজকীয় ছিলো।আশপাশ তাকাতেই টেবিলের ওপর একটা গেরুয়া ধূসর রঙের ডায়েরি পাওয়া যায়।পৃষ্ঠাগুলো নেড়েচেড়ে গুটি গুটি লেখাগুলো পড়তে শুরু করলো সে।বেশ পুরোনো দিনের গল্প লিপিবদ্ধ তাতে।ডায়েরীর কভার পেইজে রক্তের দাগ লেগে আছে।এরপর ডায়রীটা হাতে নিয়ে নিচে নেমে এলো।দোতলার বেশ কয়েকটি ঘর ঘুরে সুবিধা মতো লুকানোর কিছুই না পেয়ে সোজা চলে আসে পাকের ঘরে।বড়সড় পাকের ঘর বেশ অগুছালো।গুমোট একটা গন্ধ উড়ছ।প্রথমেই চোখ পরে টেবিলের ওপর রাখা একটা কাঁচের জগ।তাতে আছে লাল শরবত।মুহুর্তেই বিদ্যুৎ শকট্ খেয়ে ধক করে উঠলো বুকটা।সে আরো কিছু খোঁজতে গিয়ে তার চোখ পড়লো ময়লার ঝুড়িতে।কিছু হাঁড় পরে আছে তাতে।অনেকটা মানুষের বুকের খাচির মতো দেখতে।এটা যাই হোক নিশ্চই এর বাকীটা ফ্রিজে আছে।দৌড়ে গিয়ে ফ্রিজের ডাকনাটা উঠাতেই চোখদুটো উট পাখির ডিমের মতো বড়ো হয়ে গেলো।একটা বাচ্চা মেয়ের লাশ।মেয়েটার পেট থেকে বুক ও গলাসহ তুলে নেয়া হয়েছে।ভেতরে ফুসফুস,কলিজা,নাড়িভুড়ি কিছুই নেই।তাহলে কি মজিবর এসব দিয়েই মাংসের কাবাব বানায়!আসিফ নিজেকে শক্ত করে পাশে রাখা একটা বক্সের ডাকনা উঠালো এতে কিছু চর্বি রাখা আছে।সে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না।মাথা ঘুরছে।পেটের মধ্যে কেমন মোচর দিচ্ছে,হয়তো এখনই বোমি চলে আসবে।ধীরেধীর রুমে এসে বসতেই মানুষের গলার স্বর শুনতে পেলো।আওয়াজটা নদী ঘাট থেকে আসছে।আসিফ জানালার ফাঁকা দিয়ে দৃষ্টি দিলো বাহিরে। আট,দশজন লোক দাঁড়িয়ে আছে।মজিবর ফ্রিজে থাকা ছাতিছাড়া ওই লাশটা তাদের সামনে পরিবেশ করলো কেও হাত কেও পা যার যেটা খুশি ইচ্ছে মতো খেতে থাকলো।একটা জগে লাল শরবত নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে আছে সে।আসিফের কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছে।জিব শুকিয়ে যাচ্ছে।ধকধক করে হৃদপিণ্ডটা লাফিয়ে উঠে আবার থেমে যেতে চাইছে। আর একটু হলেই মজিবর তাকে জেন্ত ছেড়ে দিতো না।পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ।জানালায় উুঁকি দিয়ে তাদের একবার দেখে নিলো সে।চাঁদের আলোয় ফকফকা হয়ে আছে আশপাশ ।হাঁড় চিবানো কটমট শব্দটা ওপর থেকে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো আসিফ। বাড়ির সামনে অনেকটা খালি জায়গা ।সেখানে পাথর দিয়ে তৈরী একটা মুর্তি দাঁড়িয়ে আছে।হাতে তলোয়ার,মুখে মিহি হাসি।ঠোঁটের ওপর মোটা গোঁফ।মাথায় কোকড়া চুল।প্রথম দিন এটা চোখে পড়েনি।কিন্তু মুর্তির মুখটা তার চেনা।জীর্ণশীর্ণ কাপড় আর হাতে লাঠি ওয়ালা ওই পাগলটার মুখের সাথে মুর্তির মুখের হুবহু মিল আছে।তাছাড়া পায়ের দিকটায় খোদাই করে একটা নাম লেখা। “রবিতাভ চ্যাটার্জী”।

সিঁড়ির নিচেই একটা ছোট ঘর আছে।সেখানে খুব দ্রুত নিজেকে আঁড়াল কারলো আসিফ।অল্প আলোর একটা লাইট টিমটিম করছে।রাত তখন বারোটা।তিরতির করে ভেসে আসা বাতাসের শীতলতায় কিছুটা সস্তির অনুভুতি ।গেরুয়া রঙের ডায়রীটা তখন হাতে।রক্ত লেগে থাকা সেই ডায়েরির পাতাগুলো আধা ছেঁড়া। কাঁপা কাঁপা হাতের লেখায় চোখ চলছে গভীর কৌতূহল নিয়ে।পুরনো দিনের ব্যক্তিগত দিনলিপি পড়ে কি লাভ?তবে দৃষ্টি নাড়লো না পাতা থেকে।কালচে রক্তের দাগ এখানটায় একটু বেশি।তাই পৃষ্ঠাগুলো কেমন একসাথে ল্যাপ্টে আছে। আর তাতে যা লেখা ছিলো…..

১২-১১-১৯৯০।চ্যাটার্জী পরিবারে মুখ আলো করে নতুন অথিতি এসেছে।সবাই খুশিতে রবরব করছে।বাধ ভাঙা আনন্দ আর উৎসবে মুখরিত সবাই। মজিবর আর ভানু সকাল থেকেই পূজার প্রচলন সাজাতে ব্যস্ত।বহু চেষ্টা আর ত্যাগের বিনিময়ে এইপরিবারের একমাত্র বংশধর রবিতাভ চ্যাটার্জীর পুত্র সন্তান হয়েছে।সেই খুশিতে বাড়িতে শিব পূজার আয়োজন।রবিতাভের বাবা হরিতাভ তামাকের নলটা মুখে দিয়ে আকাশের দিকে গরগর করে ধুঁয়া ছাড়ছেন।এদিকে ঢোল তবলা আর শাঁখের ধ্বনিতে রমরমা পরিবেশ। গাঁয়ের লোকেরাও পূজা করতে এসেছে।সন্ধ্যা পর্যন্ত পূজার আয়োজন চলতে থাকে।এক সময় বাড়ির সদর দরজা বন্ধের জন্য সতর্ক সংকেত বাজানো হয়।কিন্তু এর মধ্যে একদল সন্ন্যাসী খাজনার জন্য উপস্থিত হয় সেখানে।হরিতাভ ছানাবড়া চোখে চেয়ে আছে তাদের দিকে।যেন দুনিয়ার সমস্ত অমঙ্গল নেমে এলো মাত্র। রবিতাভ উন্মুক্ত শমশের হাতে রাগে কাঁপতে থাকে।বেলা ডুবার পর এ বাড়িতে দান-দক্ষিনা করার নিয়ম নেই।সন্ন্যাসী বলে তাড়াতেও পারছে না।তারাও নাছর বান্দা।খাজনা না নিয়ে কিছুতেই ফিরবে না।রবিতাভ তাগরা যুবক।রক্তে টগবগে ভাব এখনো কাটেনি।উন্মুক্ত তরবারি হাতে হুংকার দিয়ে বললো,সংসারে অমঙ্গল বয়ে আনে সে আবার কিসের সন্ন্যাসী।ধর্মের পরোয়া না করে ছুটে যায় তাদের কাছে।তরবারির ধাড়ালো ফলার আঘাতে বেশ কয়েকজনের মুণ্ডপাত হয়ে যায় আর তন্ত্র সিদ্ধ গুরু সন্ন্যাসী ছুটে পালায় নদী ঘাটে।রবিতাভের সিংহ গর্জনে নদীর জলের তলায় চলে যায় সে।এরপর থেকে এ সংসারে নেমে আসে অন্ধকার। একে একে নিষ্পাপ প্রাণ গুলো ঝরে যায়।অকারণেই সং ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকে আর চলে অশান্তির কালো ছায়া ও কায়ার আগ্রশন।বাবার মৃত্যুর পর রবিতাভ বড্ড একা হয়ে যান।বাড়ির সমস্ত বেয়ারা কাজের লোক সবাই অমঙ্গল থেকে বাঁচতে পালিয়ে যায়।রবিতাভের ছেলে অমিতাভ ধীরেধীরে বেড়ে উঠতে থাকে।মা মরা ছেলের দেখাশোনা করতো সতের বছর বয়সের কিশোর, মজিবর।সাত বছর বয়সী অমিতাভও ছিলো তার খুব আপন বন্ধু।একদিন রাতে কিছু একটা দেখে ভীষণ ভয় পায় অমিতাভ। জানালার মধ্যে দিয়ে কালো একটা ছায়া এসে তার পিছনে দাঁড়ায়।তিনতলা থেকে শুধু একটা হীন চিৎকার ভেসে আসে।পরক্ষনে ছুটে আসে সবাই।মাটিতে চিত হয়ে পরে আছে অমিতাভ।তার ঘাড়ের রক্তশিরায় দুইটা ফুটো বিদ্যমান।সেখান থেকে লাল টকটকে তাজা রক্ত গড়িয়ে পরছে।

চলবে… 

Series Navigation<< জঙ্গলে মঙ্গল নেই – দ্বিতীয় পর্বজঙ্গলে মঙ্গল নেই – শেষ পর্ব >>

মতামত জানান