বড় গাছের চেয়ে ঝোপ- ঝাড় আর লতা- গুল্ম আমার বেশি পছন্দ।
যে গুলোর সাইজ আমার মত। বা একটু ছোট।
বেশির ভাগ গাছই দুই এক বছরের মধ্যে হিলহিল করে বড় হয়ে যায়। হয়তো সেদিনই পিচ্চি দেখলাম।কিন্তু মাত্র কয়েকদিনেই ওরা অনেক বড় হয়ে যায়। বড় হবার পর ওদের সাথে একটু দূরত্ব হয়ে যায়। বেশ মুরুব্বী হয়ে যায় তো তাই ।
ঘাস আর ঝোপের বেলায় তা হয় না। তবে বিরানভূমিতে ঘাস অনে লম্বা হয়। এক মানুষ সমান উঁচু ঘাসও দেখেছি । ঝোপ ঝাড় আর ঘাসের একটা জিনিস ভাল ,ওরাও অনেক পোকা আর পাখির থাকার জায়গা করে দেয়। কাঠবিড়ালি , খরগোশ হরেক রকমের গিরগিটির বাসা হচ্ছে এই ঘাসের দঙ্গল। বুনো জুই , লতানো আঙুরের ঝোপ, ডগ রোজ আর অচেনা শাক -লতাপাতার ঝোপ সবই বাগানের চেহারা বদলে দেয়।
পাহাড়ের গোঁড়ার দিকে কিছু জলজ ঝোপ পাওয়া যায়, কারন ওখানের মাটি ভেজা। শুকনো শামুকের খোলা পাওয়া যায় ঝোপের ধারে। কখনও পাখীর ডিমের খোসা।
গরমের ঋতুতে পাকা ফলের লোভে কিছু পাখী এসে জড় হয়। কখনও জোড়া সবুজ টিয়া পাখী। বা হলুদ রঙের বুলবুলি।
ওরা বাসা বানায় ঝোপের ধারে। অনেক কষ্ট করে খড় কুটো নিয়ে আসে বাসা বানানোর জন্য। সারাক্ষণ চিল্লা ফাল্লা করে । আর গাছের ডালে ডালে লাফিয়ে গিয়ে পাকা ফল খুঁজে।
বাগানে এক গাদা সবুজ নরম ঘাস হয়ে থাকলে মনটা ও ভাল হয়ে যায়।লিলুয়া বাতাসে সর সর করে কথা বলে ওরা। ঘাসের মধ্যেও কত রকম ঘাস ফুল ফুটে। সোনালী রঙের মৌমাছি চলে আসে ঘাসের বনে। কুমকুম রঙের প্রজাপতি উড়ে বেড়ায়।
ঘাস ছাড়া কি পৃথিবী কল্পনা করা যায় ?
বর্ষার দিনে ওরা কি সুন্দর সবুজ হয়ে যায়। বৃষ্টি শেষে ওরা চো চো করে বৃষ্টির জল চুষে খায়। কান পাতলে শব্দ পাওয়া যায় ঘাসের বনে। শীতে শুকিয়ে হলুদ হয়। গরমে আবার বেড়ে উঠে। প্রত্যেকটা মৌসুম বদলে যাবার সাথে সাথে ঘাসের চেহারাও বদলে যায়। ওরা একই রকম থাকে না।
ঘাস কি ? একবার এক পিচ্চি বলেছিল আমাকে?
ওকে বুঝাই কি করে ঘাস কি ?
হয়তো বলতে পারতাম ঘাস হচ্ছে ঝিঝি পোকার বাসা। অলস বিড়ালের খেলা করার সঙ্গী হচ্ছে ঘাস। কাঠবিড়ালীদের বা দুষ্টু পাখিদের লুকোচুরি খেলার জায়গা হচ্ছে ঘাস। বা পূবালী হাওয়ার বাসা হল ঘাস।
কিছু বলতে পারিনি।
আজও পারি না, শুধু বেঞ্চিতে বসে দেখি নরম নরম সবুজ ঘাসের বন।

মতামত জানান